টানা চার দিন দরপতনের পর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও পরে তা কমে ১০১ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়েছে।
বাজারে তেলের দামের ওঠানামার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে—এমন সম্ভাবনার দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও কমেছে।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা তাঁদের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করায় তেলের দাম আবার বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক আলোচনার গতিপথ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো রয়েছে। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের রিয়াদ ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। হুতিদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে সৌদি আরব চীনের সহযোগিতা চেয়েছে। পরে চীন তেহরানকে হুতিদের হামলা বন্ধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইয়ানবু বন্দর দিয়ে কিছু চালান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। ট্যাংকার চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সাতটি বড় তেলবাহী জাহাজে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে লিবিয়ার শরারা তেলক্ষেত্র থেকে জাওইয়া বন্দরের দিকে যাওয়া একটি পাইপলাইনের ভাল্ভ বন্ধ করে দিয়েছে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এতে ওই তেলক্ষেত্রের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে সেখানে দৈনিক প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার হলে প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬৪ সেন্ট। ডলারের দাম ১২৩ টাকা ধরলে বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ৭৯ টাকা। তবে এটি শুধু অপরিশোধিত তেলের বাজারমূল্য। এর সঙ্গে পরিবহন, বিমা, বন্দর, পরিশোধন, সংরক্ষণ, বিতরণ ব্যয় এবং শুল্ক-কর যুক্ত হয়।
বাংলাদেশের তেল পরিশোধনের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দেশের চাহিদার বড় অংশের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ছাড়াও আমদানি ও অন্যান্য খরচ দেশের জ্বালানি তেলের মূল্যে প্রভাব ফেলে।