দেশের বাজারে ফের কমেছে সোনার দাম। বিশ্ববাজারে মূল্য কমার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমানো হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি জানিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি এখন বিক্রি হবে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরির দাম হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।
এর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।
সোনার দাম কমলেও রুপার বাজারদরে পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে গত ৩১ আগস্টও সোনার দাম কমানো হয়েছিল। ওই সময় প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছিল।
চলতি বছরে দেশের বাজারে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। গত ২৯ জানুয়ারি এক দফায় প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটিই দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।
পরে অবশ্য কয়েক দফা কমার পর দেশের বাজারে সোনার দাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকার নিচেও নেমেছিল।
কিছুদিন বাড়তির দিকে থাকার পর গত সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমছে। গ্রিনিচ মান সময় বুধবার রাত ১২টা ১৭ মিনিটে, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ১৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩০৪ দশমিক ০১ ডলারে নেমে আসে।
৭ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক বাজারে এটিই সোনার সর্বনিম্ন দর। ফলে টানা চতুর্থ দিনের মতো দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত ২০০ দিনের গড় দামেরও নিচে নেমেছে সোনার দর। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য সোনার ফিউচার মূল্যও ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫০ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে মার্কিন ডলারের অবস্থান তুলনামূলক শক্তিশালী রয়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারী ক্রেতাদের কাছে ডলারে নির্ধারিত সোনার দাম তুলনামূলক বেশি হয়ে উঠছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর পর ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটিকে দুই দেশের সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো তেলের দাম বেড়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।