সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নাকি আর মাত্র ১৪ দিনের মতো তেল মজুত রয়েছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। ভাইরাল হিসাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতের সঙ্গে দেশটির দৈনিক মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের তুলনা করে তৈরি করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআরে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। অন্যদিকে দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ বা ব্যবহার হয়। এই দুই সংখ্যা ভাগ করলেই প্রায় ১৪ দিনের হিসাব পাওয়া যায়।
তবে এই হিসাব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল সরবরাহের পরিস্থিতি বোঝা যায় না। কারণ, এসপিআর হলো জরুরি পরিস্থিতির জন্য রাখা সরকারি মজুত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের একমাত্র উৎস নয়। দেশটির নিজস্ব উৎপাদন, বাণিজ্যিক মজুত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক মজুতেও রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। দেশটির শোধনাগারগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধন করা হয়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে। ফলে এসপিআরের ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল তেলকে দেশের মোট তেল সরবরাহ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
তবে উদ্বেগের জায়গাটি অন্যত্র। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত সত্যিই কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০২০ সালের শেষ দিকে এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট সেই মজুত কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে।
এসপিআরের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল। উপকূলীয় এলাকায় চারটি ভূগর্ভস্থ লবণগুহায় এই তেল রাখা হয়। বড় ধরনের যুদ্ধ, অবরোধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে এই মজুত ব্যবহার করার জন্যই এটি রাখা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেন—দুই প্রশাসনের সময়ই বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ছাড়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে সরকারি জরুরি মজুত আগের তুলনায় অনেক কম।
সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৪ দিনের তেল আছে—এমন দাবি বিভ্রান্তিকর। দেশটি দুই সপ্তাহের মধ্যে তেলশূন্য হয়ে পড়ছে না। তবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির জরুরি তেলভান্ডার যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, সেটি অবশ্যই দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।