নেত্রকোনা সরকারি কলেজে শিক্ষকসংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ইংরেজি বিভাগে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সংখ্যক ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পড়াশোনার জন্য প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন একাধিক ক্লাস করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক সময় এক বা দুটি ক্লাসের বেশি হয় না। তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খুসবো তারান্নুমের দৈনিক আটটি ক্লাস নির্ধারিত থাকলেও শিক্ষকস্বল্পতার কারণে নিয়মিতভাবে তা হচ্ছে না। একই পরিস্থিতি চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান আহমেদের ক্ষেত্রেও। তাঁর নয়টি ক্লাস থাকার কথা থাকলেও গড়ে একটি ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক পদের সংখ্যা চারটি। এর মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বর্তমানে দুজন শিক্ষক এবং বাইরে থেকে আনা কয়েকজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালানোর চেষ্টা চলছে।
বিভাগের একজন প্রভাষক জানান, শুধু অনার্স ও মাস্টার্স নয়, উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও ইংরেজি পড়াতে হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৯টি ক্লাসের প্রয়োজন হয়। এই চাপ সামলাতে অন্তত ১২ জন শিক্ষক প্রয়োজন।
শিক্ষকস্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠদান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানান বিভাগের শিক্ষকরা। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত ক্লাস নিতে না পারায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
শুধু ইংরেজি বিভাগ নয়, কলেজের গণিত, প্রাণিবিদ্যা, রসায়নসহ বিভিন্ন বিভাগেও শিক্ষকসংকট রয়েছে।
গণিত বিভাগে চারটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। উচ্চমাধ্যমিক ও বিএসসি পর্যায় মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে তাঁদের পড়াতে হচ্ছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও কম শিক্ষক থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগেও চারটি পদের মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন দুজন। কিছু বিষয়ে আবার বাইরের অতিথি শিক্ষক এনে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।
কলেজ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণি থেকে শুরু করে ১৪টি বিষয়ে অনার্স ও স্নাতকোত্তরসহ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৫৪ জনের বেশি।
কলেজে শিক্ষকের প্রয়োজন প্রায় ২৩৭ জন। তবে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদ বাদ দিলে অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে ৬৫টি। এর মধ্যে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকের মোট ২৯টি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক মাত্র ৩৬ জন।
কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদির ফকির বলেন, একই ধরনের বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু নেত্রকোনা সরকারি কলেজে সেই অনুপাতে পদ সৃষ্টি হয়নি।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষকসংকট নিরসনে নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে ১৭০টি নতুন শিক্ষক পদ তৈরির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু তাহের খান আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে শিক্ষকসংকট অনেকটাই কমবে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নত হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি ও শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।