রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬
৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> কুয়েতে পাঠানো হয়নি ২০ টন উপহারের মাছ, এবার নিলামে

>> মাউন্ট ফুজিতে ৭ বছরের ছেলেকে একা রেখে গেলেন বাবা, ৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার

>> কলকাতার হোটেলে আগুন: আহম্মেদ বাবুর মরদেহ সাভারে, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্ত্রী

>> বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তথ্য সংগ্রহ করে চাঁদা দাবি, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ৪

>> দুই দিনেই টেস্ট শেষ, বাকি সময় কী করবেন নাজমুলরা?

>> নেশার টাকার জন্য মা-ভাইকে বঁটি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

>> বঙ্গভবনে প্রথম দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

>> ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ: প্রতিবেশীদের সতর্ক করল ইরান

>> প্রতিশোধের জয়? কামিন্স বললেন, ‘আত্মসম্মানের ব্যাপার’

>> টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রথমবার ষষ্ঠ স্থানে

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

কলকাতার হোটেলে আগুন: আহম্মেদ বাবুর মরদেহ সাভারে, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্ত্রী


Rabeya ২৩ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৩:১৭



কলকাতার হোটেলে আগুন: আহম্মেদ বাবুর মরদেহ সাভারে, দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্ত্রী


কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবুর মরদেহ দেশে আনার পর তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী গুলশানারা।

আহম্মেদ বাবু সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি এলাকার প্রয়াত আদম আলীর ছেলে। আমিনবাজারের শাহীন সুপারমার্কেটে তাঁর প্রসাধনীর ব্যবসা ছিল। তাঁর দুই সন্তান—আট বছর বয়সী এলিনা হাসান রোজা ও পাঁচ বছর বয়সী সোয়াত।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ব্যবসার পণ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত সোমবার কলকাতায় যান বাবু। পরদিন গভীর রাতে নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে বাবুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাবুর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে সাভারের উদ্দেশে রওনা হন। রাত প্রায় তিনটার দিকে তাঁরা সাভারে পৌঁছান।

রোববার সকালে আমিনবাজারের হাজীবাড়ি মসজিদের সামনে বাবুর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়। স্বচ্ছ কাচের ভেতর দিয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখেন। এ সময় সেখানে শোকাহত মানুষের ভিড় জমে।

মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বাবার জন্য কাঁদছিল ছোট্ট এলিনা। বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সে জানায়, বাবা তাকে বিভিন্ন জিনিস কিনে দিতেন। ভারত থেকে ফেরার সময় চকলেট ও চিপসও নিয়ে আসতেন।

স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় গুলশানারা। তিনি সরকারের কাছে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে সন্তানদের নিয়ে জীবন চালাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

পরে সকাল সোয়া ৯টার দিকে বাবুর মরদেহ পাশের হিজলা পাঁচ মসজিদ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে আমিনবাজার বড়দেশি কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

বাবুর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, পরিবারের ছোট সদস্য হিসেবে বাবু সবার অত্যন্ত আদরের ছিলেন। ভাইকে হারানোর শোকের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বাবুর স্ত্রী ও সন্তানদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাবুর বন্ধুদের কাছেও তাঁর মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বন্ধু মো. ইব্রাহিম জানান, ব্যবসার কাজে তাঁরা একাধিকবার একসঙ্গে ভারতে গেছেন এবং একই হোটেলেও থেকেছেন। বাবু এভাবে আর ফিরে আসবেন না—এটি তাঁরা কখনো ভাবেননি।

বন্ধুরাও ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাবুর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।