রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬
৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> দুই দিনেই টেস্ট শেষ, বাকি সময় কী করবেন নাজমুলরা?

>> নেশার টাকার জন্য মা-ভাইকে বঁটি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

>> বঙ্গভবনে প্রথম দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

>> ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ: প্রতিবেশীদের সতর্ক করল ইরান

>> প্রতিশোধের জয়? কামিন্স বললেন, ‘আত্মসম্মানের ব্যাপার’

>> টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস, প্রথমবার ষষ্ঠ স্থানে

>> কলকাতার হোটেলে আগুন: কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষসহ চারজনের শেষবিদায়

>> বঙ্গবন্ধু গেরিলা সংগঠনের নাম ও আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ আয়মান হোসেন অপুর

>> ৩৬ বছর বয়সেই থেমে গেল জনপ্রিয় তারকা হেইডেন প্যানেতিয়েরের জীবন

>> প্রথমবার আকাশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ: প্রতিবেশীদের সতর্ক করল ইরান


২৩ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৩০



ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপ: প্রতিবেশীদের সতর্ক করল ইরান


যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কর্মসূচিতে কোনো প্রতিবেশী দেশ অংশ নিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কবার্তা দেন।

রেজাই জানান, প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের অংশ হলে ইরান প্রথমে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করবে। এরপরও কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সময় দেওয়া হবে। তবে শেষ পর্যায়ে ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

তাঁর বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে তাঁর প্রশাসন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছে।

এদিকে ইরানকে সহায়তা বা কোনো ধরনের ‘লাইফলাইন’ দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও মিত্র ও অন্যান্য দেশগুলোর প্রতি ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাড়াতে চায় না। বরং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি।

ইরানের এই হুঁশিয়ারির পাশাপাশি দেশটির লক্ষ্যবস্তুর পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বাড়তে পারে—এমন খবরও সামনে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর মার্কিন মিত্রদেরও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন অন্য দেশগুলোর ওপর নিজেদের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা এখন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার গণ্ডি ছাড়িয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।