ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবার দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় ২৬৬ দিনের দীর্ঘ অভিযানের পর রণতরিটির সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
রণতরিটিতে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান, যুদ্ধকালীন দায়িত্ব এবং বিশ্রামের ঘাটতি নিয়ে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও জানিয়েছেন, নির্ধারিত পালাবদল পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আব্রাহাম লিংকনকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, পুরো অভিযানে নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রণতরিটির সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। টানা মোতায়েনের কারণে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাপনেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
তাজা খাবারের সরবরাহে পরিবর্তন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হওয়ার মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধকালীন দায়িত্বের কারণে রণতরিটির কিছু সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন নাবিক এ সংক্রান্ত চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি একজন নাবিক রণতরি থেকে পানিতে পড়ে গেলে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েনের ফলে নাবিকদের মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
নাবিকদের পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের স্বজনদের দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকা, বিশ্রামের সীমিত সুযোগ এবং মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
দীর্ঘ অভিযানের সময় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে ১০ হাজারের বেশি উড্ডয়ন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের কথাও জানানো হয়েছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও বলেন, দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ অভিযান সামরিক সদস্যদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তারপরও তাঁরা দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তাঁর মতে, সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা এবং সেনাসদস্যদের শারীরিক-মানসিক সুস্থতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রণতরিতে থাকা সদস্যদের কয়েকজন পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রণতরিতে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য চিকিৎসক, পরামর্শক, চ্যাপলিনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে।
দীর্ঘ ২৬৬ দিনের অভিযানের পর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সদস্যদের দেশে ফেরার প্রস্তুতি তাই শুধু একটি সামরিক পালাবদলের বিষয় নয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ যুদ্ধকালীন দায়িত্বের মানবিক মূল্য, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তাঁদের পরিবারের উদ্বেগ।
এখন প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের অপেক্ষা—
কবে শেষ হবে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, আর কবে তাঁরা ফিরবেন আপনজনের কাছে।