শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> গাজীপুরে সোয়েটার কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৯ ইউনিট

>> শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

>> আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে কটিয়াদীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, মুক্তির দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ

>> ‘আমি আওয়ামী লীগার না’ বলে আদালত চত্বরে হেলমেট ছুড়ে ফেললেন আখতারুজ্জামান

>> দেশে আবার দুর্নীতি বেড়েছে, সীমান্তে পাহারা বসানোর দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

>> বাসের টিকিট বিক্রি নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১০

>> ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক

>> সরকারি দপ্তরের পাশেই জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা পেতে ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

>> রাড্ডায় হামলা–মিষ্টির পদত্যাগ: বিএনপির কঠোরতা কতটা কার্যকর হবে?

আপনি পড়ছেন : ধর্ম

নবীজি (সা.)-এর দ্বিতীয় শাম সফর: খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে নতুন অধ্যায়ের সূচনা


Rabeya ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৬



নবীজি (সা.)-এর দ্বিতীয় শাম সফর: খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে নতুন অধ্যায়ের সূচনা


নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের ২৫ বছর বয়সের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল দ্বিতীয়বার শাম সফর। প্রথম সফরের প্রায় ১৩ বছর পর তিনি এবার চাচার সঙ্গে নয়, মক্কার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)-এর বাণিজ্য কাফেলার দায়িত্ব নিয়ে শামের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

এর আগেই মক্কার মানুষের কাছে তাঁর সততা ও বিশ্বস্ততার ব্যাপক সুনাম তৈরি হয়েছিল। এ কারণেই তিনি ‘আল-আমিন’ ও ‘আস-সাদিক’ নামে পরিচিত ছিলেন। খাদিজা (রা.) তাঁর এই গুণাবলির কথা জেনে তাঁকে নিজের ব্যবসার প্রতিনিধি হিসেবে শাম সফরের দায়িত্ব দেন।

প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ব্যবসায়িক চুক্তির আওতায় খাদিজা (রা.) পুঁজি সরবরাহ করেন এবং মুহাম্মদ (সা.) ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তাঁর সহকারী হিসেবে ছিলেন খাদিজা (রা.)-এর বিশ্বস্ত কর্মচারী মাইসারা।

কাফেলাটি মক্কা থেকে উত্তর দিকে বাণিজ্যপথ ধরে শামের বুসরা অঞ্চলে পৌঁছায়। সেখানে পণ্য কেনাবেচার পর কাফেলাটি মক্কায় ফিরে আসে। সফরটি ব্যবসায়িকভাবে অত্যন্ত সফল হয়েছিল বলে বিভিন্ন সিরাতগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

এই সফরে মুহাম্মদ (সা.)-এর সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতা মাইসারার নজরে পড়ে। তিনি মক্কায় ফিরে খাদিজা (রা.)-কে সফরের বিভিন্ন ঘটনা জানান। বিশেষ করে তাঁর লেনদেনের সততা ও আচরণ খাদিজা (রা.)-কে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

নবীজি (সা.)-এর দ্বিতীয় শাম সফর নিয়ে নাসতুর নামের এক ধর্মযাজক, মেঘের ছায়া এবং ভবিষ্যৎ নবুয়তের ইঙ্গিতসংক্রান্ত কিছু বর্ণনাও সিরাতগ্রন্থে পাওয়া যায়। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তাই এগুলোকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

ব্যবসায়িক দিক থেকেও এই সফর ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মক্কার ব্যবসায়ীরা শাম অঞ্চলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য করত। হেজাজ থেকে চামড়া, পশম, সুগন্ধি ও বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাওয়া হতো এবং শাম থেকে কাপড়, খাদ্যদ্রব্যসহ নানা সামগ্রী মক্কায় আসত।

ফেরার পর খাদিজা (রা.) তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিনিধি হিসেবে মুহাম্মদ (সা.)-এর অসাধারণ দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার বিষয়ে আরও নিশ্চিত হন। এই আস্থা পরবর্তীকালে তাঁদের পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ভিত্তি তৈরি করে।

ইসলামের ইতিহাসে এই দ্বিতীয় শাম সফর তাই শুধু একটি বাণিজ্যিক যাত্রা নয়; বরং নবীজি (সা.)-এর নবুয়তপূর্ব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তাঁর সততা, আমানতদারি ও ব্যবসায়িক যোগ্যতার যে পরিচয় এ সফরের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়, তা খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।