রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে হামলা, ভাঙচুর ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার চার দিন পরও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের একটি কক্ষ ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে টিকাদান ও কিছু প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির কিছু অংশ পরিষ্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষে বিদ্যুৎ ও পাখার ব্যবস্থা করা হলেও অবকাঠামোর অন্যান্য কাজ এখনো চলছে। পানির সংযোগ ও শৌচাগারসহ প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধা পুরোপুরি চালু না হওয়ায় সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিকভাবে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হামলার পর প্রথম দিকে কেন্দ্রের বাইরে অস্থায়ীভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। পরে একটি ক্ষতিগ্রস্ত কক্ষ পরিষ্কার করে সেখানেই টিকা দেওয়া শুরু হয়। নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির টিকাও দেওয়া হচ্ছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, সীমিত পরিসরে সাধারণ স্বাস্থ্য পরামর্শও দেওয়া যাচ্ছে। তবে গর্ভবতী নারী, প্রসব-পরবর্তী মা, কিশোর-কিশোরী, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টিসেবার মতো কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করতে হলে অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কেন্দ্রটিতে সংস্কারকাজও চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে কিছু জায়গা ব্যবহারের উপযোগী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কেন্দ্রটি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্তও চলছে।
রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।
সব মিলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার চেষ্টা করছেন কেন্দ্রটির কর্মীরা। তবে পূর্ণাঙ্গ সেবা ফিরিয়ে আনতে অবকাঠামো মেরামত ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পুনঃস্থাপনের কাজ শেষ হওয়া জরুরি।