বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ডাকসুর শিক্ষক মূল্যায়ন উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের দাবি

>> ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১ হাজার শয্যায় রোগী প্রায় ৪ হাজার, বারান্দা-মেঝেতেও চিকিৎসা

>> ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় নেতাদের বৈঠক, হুতিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের গোপন আলোচনা

>> সার বিক্রয়কেন্দ্রের তালা ভাঙার চেষ্টা, বিএনপি নেতাকে শোকজ

>> বেশি সার সরবরাহের দাবি, তবু বিভিন্ন এলাকায় সংকটের অভিযোগ

>> বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, তিন কিশোর আটক

>> সাদা চুল কালো করে ট্রেনে পালানোর চেষ্টা, আখাউড়ায় ধরা পড়লেন আসামি

>> বেশির ভাগ অপরাধের পেছনে মাদক-জুয়া: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

>> বিএনপি নেতার গোয়াল থেকে চুরি হওয়া গরু উদ্ধার, শোকজ

>> কেরানীগঞ্জে সেলুনে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা, আটক ২

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১ হাজার শয্যায় রোগী প্রায় ৪ হাজার, বারান্দা-মেঝেতেও চিকিৎসা


Rabeya ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৩২



ময়মনসিংহ মেডিকেলে ১ হাজার শয্যায় রোগী প্রায় ৪ হাজার, বারান্দা-মেঝেতেও চিকিৎসা


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে চার হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন। শয্যার সংকটে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের বারান্দা, করিডর ও মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গত সোমবার হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের বাইরের অংশে আগুন লাগার পর রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য নিয়েও আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা দেখা যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এক হাজার শয্যার বিপরীতে কয়েক গুণ বেশি রোগী সামলাতে হচ্ছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর কারণে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

গতকাল বুধবার হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের তৃতীয় তলার করিডরে দেখা যায়, প্লাস্টিকের মাদুরে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। নিউরোসার্জারি, ইউরোলজি এবং বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অনেককেই সেখানে অবস্থান করতে দেখা যায়।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের ভ্যানচালক আবুল হোসেন (৬৫) চার দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার পর নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর জন্য কোনো শয্যা বরাদ্দ হয়নি। করিডরের মেঝেতে প্লাস্টিকের মাদুর পেতে চলছে তাঁর চিকিৎসা। তাঁর স্ত্রী সমলা আক্তারের ভাষ্য, হাসপাতালে জায়গার সংকট থাকায় স্বামীকে এভাবেই চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।

হাসপাতালের আটতলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে ৬০টি। কিন্তু গতকাল দুপুরে সেখানে ভর্তি ছিল প্রায় ৩৫০ শিশু। বারান্দা, মেঝে ও লিফটের সামনের অংশেও রোগী ও স্বজনদের ভিড় ছিল।

ত্রিশালের চকরামপুরের সেলিনা আক্তার এক বছর বয়সী মেয়ে আফরাকে জ্বর, ঠান্ডা ও কাশির কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতে মাদুর পেতে শিশুটিকে রাখা হয়। রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে চলাচলের জায়গাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।

একজন নার্স জানান, রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। দ্রুত সেবা দেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও অতিরিক্ত রোগীর চাপের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তাঁর মন্তব্য।

হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি রোগীর চাপ মেডিসিন বিভাগে। ১৭০ শয্যার এই বিভাগে গতকাল দুপুরে ভর্তি ছিলেন ৯৮৮ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত শয্যার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ রোগী সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। একই সময়ে ১৫০ শয্যার সার্জারি বিভাগে রোগী ভর্তি ছিলেন ৪৮৭ জন। অন্যান্য বিভাগেও নির্ধারিত শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী রয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার রোগীরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৬৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২৯৭ জন এবং ১৬ সেপ্টেম্বর সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৮১৯ জন রোগী ভর্তি হন।

হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, এক হাজার শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় চার গুণ রোগী ভর্তি থাকেন। একজন রোগীর সঙ্গে গড়ে দুজন স্বজন থাকলে রোগী-স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার মানুষের চাপ সামলাতে হয়।

৩৫০ পদ শূন্য

হাসপাতালের অনুমোদিত জনবল পদ রয়েছে ২ হাজার ২৮৬টি। এর মধ্যে ৩৫০টি পদই বর্তমানে শূন্য। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সংকট সবচেয়ে বেশি। এ শ্রেণির ৪৬৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২২১টি শূন্য রয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির ১৯৪টি পদের মধ্যে ৬৭টি এবং ৪৬৬ চিকিৎসকের মধ্যে ৪০টি পদও খালি রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের শুরুতে চালু হওয়া সিটি স্ক্যান মেশিনটি গত মে মাসের প্রথম দিকে বিকল হয়ে যায়। সচল থাকার সময় প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০টি পরীক্ষা করা হতো। মেশিনটি নষ্ট থাকায় এখন রোগীদের বাইরে গিয়ে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে।

‘রোগী ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। একজন চিকিৎসকের স্বাভাবিক দায়িত্বের তুলনায় তাঁকে অনেক বেশি রোগী দেখতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ না থাকায় সীমাবদ্ধতার মধ্যেই অতিরিক্ত চাপ নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পর গতকাল হাসপাতাল পরিদর্শনে যান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম ইকবাল হোসেইন। হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এ সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরিতে প্রকৌশলীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।