বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> জ্যারেড লেটোর বিরুদ্ধে ১০ নারীর যৌন অসদাচরণের অভিযোগ

>> ‘আমাকে বিয়ে দিতে চান, না চান না’?’—সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছুড়ে হাসির খোরাক পরীমনির

>> লিটনের নেতৃত্বে সফলতা চান নাজমুল, জানালেন নিজের প্রত্যাশা

>> কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনায় সোনু সুদ: ‘এ ধরনের কথা বলা উচিত নয়’

>> ট্রাইব্যুনালে বক্তব্যের সুযোগ না পেয়ে লতিফ সিদ্দিকী: ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দিন’

>> হামে দুই সন্তানকে হারিয়ে আরও দুই শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে খুমি দম্পতি

>> রাবিতে শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় পাঁচ দফা দাবি গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের

>> আদালতে কলিমউল্লাহর দাবি: ‘আবু সাঈদ হত্যার প্রথম প্রতিবাদ আমিই করেছি’

>> স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা হয়নি—দাবি জামায়াত আমিরের

>> শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করতে বিএনপিকে নাহিদ ইসলামের আহ্বান

আপনি পড়ছেন : স্বাস্থ্য

হামে দুই সন্তানকে হারিয়ে আরও দুই শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে খুমি দম্পতি


৩০ জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫০



হামে দুই সন্তানকে হারিয়ে আরও দুই শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে খুমি দম্পতি

বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলার লেংটংপাড়ার বাসিন্দা তৈসাং খুমি ও নাংয়ো খুমি দম্পতির জীবনে নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। হামের উপসর্গে কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁদের দুই শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। সন্তানদের দাফন শেষ করার আগেই অসুস্থ আরও দুই সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয়েছে বান্দরবান সদর হাসপাতালে।

পরিবারটির চার সন্তানের মধ্যে সাত বছর বয়সী খ্রেতং খুমি ২৫ জুলাই এবং চার বছর বয়সী প্রেলং খুমি ২৭ জুলাই মারা যায়। লেংটংপাড়ায় পাশাপাশি দুটি কবরে তাদের সমাহিত করা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ বছর বয়সী ছেলে পথাং এউং খুমি এবং সাত মাসের কন্যাশিশু লিংথং এ খুমি।

বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে দেখা যায়, দুই অসুস্থ সন্তানের শয্যার পাশে শোকাহত অবস্থায় বসে আছেন বাবা-মা। বাংলা ভাষায় কথা বলতে না পারা নাংয়ো খুমি নিজের অসহায় অবস্থার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অন্যদিকে তৈসাং খুমি জানান, দুই সন্তানকে চিরবিদায় জানিয়ে এখন বাকি দুই শিশুকে বাঁচানোর লড়াই করছেন তাঁরা। বাড়িতে ফেরার সুযোগ নেই, হাসপাতালই এখন তাঁদের আশ্রয়স্থল।

লেংটংপাড়া একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। সেখানে পৌঁছাতে মূল সড়ক থেকে কয়েক ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়। অসুস্থ চার সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথেই এক শিশুর মৃত্যু হওয়ায় পরিবারটি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। শেষকৃত্য সম্পন্ন করে আবার হাসপাতালে রওনা দিলেও পরে আরেক সন্তানের মৃত্যু হয়।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে বেশ কয়েকজন রোগী, যাদের অধিকাংশই শিশু এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা স্বজনদের ভাষ্য, এখনো অনেক শিশু একই ধরনের উপসর্গে ভুগছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বহু দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও কমিউনিটি ক্লিনিকও দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় হামের উপসর্গ নিয়ে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুধু লেংটংপাড়াতেই কয়েকজন শিশুর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে রুমা ও থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন দুই শিশুর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় উন্নতির দিকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা এবং জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হামের টিকা না পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি একপাক্ষিকভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। কোথাও টিকাদান কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা ছিল, আবার কিছু এলাকায় টিকা গ্রহণে অনীহাও দেখা গেছে। এসব সমস্যা দূর করে টিকাদান কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।