শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আগে মানুষের মন ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে হবে: মাহফুজ খন্দকার

>> সাড়ে পাঁচ মাস পর হুইলচেয়ারে সংসদে মির্জা আব্বাস, দিলেন আবেগঘন বক্তব্য

>> মহানবী (সা.) ও ইসলাম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, যুবক ৫ দিনের রিমান্ডে

>> মেসিকে মিস করবেন মরিনিও, শেষ সময়টা উপভোগ করতে চান

>> ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,২৫২

>> বেড়াতে আসা তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগ, দুই যুবককে নদীতে ডুব দেওয়ালেন স্থানীয়রা

>> ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ, বাড়ল ক্রিকেটারদের আয়

>> চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া শিশুকে হাসপাতালে নিলেন মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি

>> গ্যারেজে বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহ, বাস্তবে কেমন চালক ছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার

>> পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ধ্বংস প্রায় ২ লাখ বোতল ফেনসিডিল

আপনি পড়ছেন : মতামত

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আগে মানুষের মন ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে হবে: মাহফুজ খন্দকার


Sheikh Mojahidur Rahman ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩০
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আগে মানুষের মন ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনতে হবে: মাহফুজ খন্দকার

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে হলে সবার আগে দেশের মানুষের মন ও চিন্তাধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামীলীগ কর্মী মাহফুজ খন্দকার। তাঁর মতে, রাজনৈতিক কোনো নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন শুধু আইনি, সাংগঠনিক কিংবা কৌশলগত উদ্যোগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন জনগণের মধ্যে আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা।

সম্প্রতি ডব্লিউএমআর নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহফুজ খন্দকার এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি ধৈর্য ধরে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মাহফুজ খন্দকার বলেন, একটি দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। জনগণের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ধারণা, গণমাধ্যমের প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়েই একটি রাজনৈতিক নেতার প্রতি মানুষের ধারণা তৈরি হয়।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের একটি অংশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভুল বোঝাবুঝি, ক্ষোভ কিংবা রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এই দূরত্ব দূর করাকেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।

‘ভুল ধারণা দূর করতে হবে’

বিবৃতিতে মাহফুজ খন্দকার বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে যেসব নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, সেগুলো নিয়ে আবেগের পরিবর্তে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক বিরোধিতা বা সমালোচনার জবাব সংঘাতের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের কাছে গিয়ে তাদের প্রশ্ন ও উদ্বেগের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে দিতে হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাদের মতামত শোনা এবং তাদের সমস্যাগুলো বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

‘উন্নয়নের খতিয়ান জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে’

শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সরকার পরিচালনার সময়কালের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে নতুন করে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মাহফুজ খন্দকার।

তাঁর বক্তব্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, ডিজিটাল সেবা, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পসহ সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে জনগণের সামনে তথ্যভিত্তিক আলোচনা প্রয়োজন।

তবে শুধু অতীতের সাফল্যের কথা বললেই হবে না—বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতার তুলনামূলক বিশ্লেষণও মানুষের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

‘মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে হবে’

মাহফুজ খন্দকার বলেন, রাজনীতির মূল শক্তি জনগণ। তাই শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে না গিয়ে নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও প্রত্যাশার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

তাঁর মতে, তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে কোনো রাজনৈতিক দল দীর্ঘমেয়াদে জনসমর্থন ধরে রাখতে পারে না। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কথা শুনতে হবে এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের মন জয় করতে হলে মানুষের ভাষায় কথা বলতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তব সমস্যা ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।

‘প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’

সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজনের পরিবর্তে দেশের স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দেন মাহফুজ খন্দকার।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সংঘাত ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি রাজনৈতিক পরিবেশকে জটিল করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের ভবিষ্যৎ, অর্থনীতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জাতীয় স্থিতিশীলতার বিষয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক চিন্তা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্য, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের আবেগের পাশাপাশি বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের মতামত এবং দেশের সামগ্রিক পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে।

তৃণমূলকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

মাহফুজ খন্দকারের বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে সম্ভব নয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে হবে।

তাঁর মতে, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগই রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান উপায় হতে পারে।

‘চিন্তাধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন’

মাহফুজ খন্দকার বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা করতে হলে মানুষের চিন্তাধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাগুলোকে একপাক্ষিকভাবে না দেখে মানুষকে তথ্য, বাস্তবতা ও নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে মূল্যায়নের সুযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণ যখন শান্তভাবে অতীতের উন্নয়ন, বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে তুলনামূলকভাবে চিন্তা করার সুযোগ পাবে, তখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে।

‘ধৈর্য ধরে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে’

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে মাহফুজ খন্দকার ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে মানুষের আস্থা অর্জন কোনো তাৎক্ষণিক প্রক্রিয়া নয়। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি, তাদের কথা শোনা, ভুলত্রুটি স্বীকার করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া এবং জনগণের পাশে থাকার মাধ্যমেই রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা পুনর্গঠন করা সম্ভব।

মাহফুজ খন্দকারের বিশ্বাস, দেশের মানুষ যদি অতীতের উন্নয়ন ও বর্তমান বাস্তবতাকে শান্তভাবে মূল্যায়ন করে এবং রাজনৈতিক চিন্তাধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তাহলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের সঙ্গে সংঘাত নয়, সংযোগ তৈরি করতে হবে; বিভাজন নয়, আস্থা তৈরি করতে হবে। জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পথ তৈরি করতে হবে।