শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> আশুলিয়ায় দম্পতির মরদেহ উদ্ধার, গর্ভবতী নারীর ভ্রূণ উদ্ধারের দাবি

>> থাইল্যান্ডে মাতাল হয়ে মারামারি, দুই মার্কিন নাবিককে জাহাজে ফেরত

>> সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে: লংমার্চে শফিকুর রহমান

>> লোকাল ট্রেন বন্ধের খেসারত দিচ্ছেন কুড়িগ্রামের মানুষ

>> ফুকেটের নতুন ছবি প্রকাশ করলেন মিথিলা, লিখলেন প্রকৃতির সৌন্দর্যের কথা

>> সহকারী জজ নিয়োগে ২৫০ পদ, আবেদন শেষ ৬ সেপ্টেম্বর

>> গাড়ির ইঞ্জিনে লুকিয়ে ১২২ কিলোমিটার পাড়ি, অক্ষত উদ্ধার বিড়ালছানা

>> ঘরে রক্তাক্ত স্ত্রীর মরদেহ, ফ্যানের হুকে ঝুলছিল স্বামী

>> ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মস্কো-কিয়েভে যাচ্ছেন কুশনার ও উইটকফ

>> মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত, নতুন গন্তব্যে বাড়ছে প্রতারণার ঝুঁকি

আপনি পড়ছেন : কুড়িগ্রাম

লোকাল ট্রেন বন্ধের খেসারত দিচ্ছেন কুড়িগ্রামের মানুষ


Rabeya ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৫১



লোকাল ট্রেন বন্ধের খেসারত দিচ্ছেন কুড়িগ্রামের মানুষ


কুড়িগ্রামের মানুষের কাছে একসময় রেল ছিল সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও সহজ যোগাযোগের মাধ্যম। জেলার বিভিন্ন রুটে একাধিক লোকাল ট্রেন চলাচল করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এসব ট্রেনের সংখ্যা কমতে কমতে অনেক সেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও বাড়ছে মানুষের ব্যয়।

একসময় কুড়িগ্রাম অঞ্চলে দিনে চারটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। ভোর, সকাল, দুপুর ও রাতে বিভিন্ন সময়ে ট্রেনগুলো চলত পার্বতীপুর, চিলাহাটি, সান্তাহার ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন গন্তব্যে। এসব ট্রেনের ওপর নির্ভর করতেন নিম্নআয়ের মানুষ, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা।

করোনাকালে রমনা লোকালসহ কয়েকটি ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। পরে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে পার্বতীপুর-চিলমারী রুটে রমনা লোকাল আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের মতো নিয়মিত ও পর্যাপ্ত লোকাল ট্রেন না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি। সম্প্রতি রমনা মেইল আবার চালুর দাবিতে চিলমারীতে মানববন্ধনও হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সড়কপথের তুলনায় ট্রেনে যাতায়াত খরচ অনেক কম হওয়ায় দরিদ্র মানুষের জন্য লোকাল ট্রেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রেন বন্ধ হওয়ার প্রভাব শুধু যাত্রী পরিবহনে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অল্প পরিমাণ পণ্য নিয়ে কম খরচে রেলপথে বিভিন্ন শহরে যেতে পারতেন। কিন্তু এখন তাদের সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অল্প পরিমাণ পণ্য নিয়ে ট্রাক ভাড়া করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।

এর ফলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও লাভ কমছে। স্থানীয়দের মতে, যোগাযোগব্যবস্থার এই দুর্বলতা দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।

একসময় কুড়িগ্রামের বিভিন্ন রেলস্টেশন ছিল বেশ ব্যস্ত। স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় দোকানপাট, মানুষের আনাগোনা এবং রেলওয়ের আবাসিক ভবন ছিল। বর্তমানে অনেক স্টেশন ও রেলপথের ব্যবহার কমে যাওয়ায় সেই প্রাণচাঞ্চল্য আর নেই।

চাকরিজীবী পরিবারগুলোর জন্যও লোকাল ট্রেনের আলাদা গুরুত্ব ছিল। কম খরচে দূরের কর্মস্থলে যাতায়াত করা যেত বলে অনেকেই পরিবারকে গ্রামে রেখে অন্য শহরে চাকরি করতে পারতেন। সকালে কর্মস্থলে গিয়ে বিকেলে ফিরে আসার সুযোগ থাকায় বাড়তি বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার খরচও কমত।

কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেলপথ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি রয়েছে। ২৯ কিলোমিটার এই রেলপথের দুর্বল অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ধীরগতির ট্রেন ও অনিয়মিত সেবার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথাও উঠে এসেছে।

স্থানীয়দের আন্দোলনের পর চিলমারী কমিউটারসহ কিছু ট্রেন চালু হলেও তাঁদের দাবি, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে আরও লোকাল ট্রেন চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে রমনা মেইলসহ পুরোনো রুটের ট্রেনগুলো নিয়মিত চালু হলে কুড়িগ্রাম, রংপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যয় কমবে।

রেলসেবার উন্নয়ন হলে শুধু যাত্রী নয়, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কম খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা সরাসরি বড় বাজারে যেতে পারবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও আরও গতিশীল হতে পারে।

তাই কুড়িগ্রামের মানুষের দাবি, রেলকে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম উপায় হিসেবেও দেখা হোক। বন্ধ হয়ে যাওয়া লোকাল ট্রেনগুলো পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে এনে রেলপথ সংস্কার করা গেলে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কিছুটা হলেও কমতে পারে।