চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদরদপ্তরের অবস্থান পরিবর্তনের দাবিতে ফটিকছড়ির ছয়টি ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকা এ কর্মসূচির ফলে সড়ক যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
সকাল থেকেই আন্দোলনকারীরা ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছ ফেলে বিক্ষোভ করেন। এর ফলে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার ইউনিয়নে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে।
হরতালের কারণে অধিকাংশ দোকানপাট ও বিপণিকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ওষুধের ফার্মেসি, ক্লিনিক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে।
বালুটিলা, চিকনছড়া, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ফটিকছড়ি উত্তর নামে নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ভূজপুর থানা সংলগ্ন এলাকাকে সদরদপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসনিক সেবা সহজলভ্য করতে সদরদপ্তর দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থাপন করা উচিত। তাঁদের মতে, বর্তমান সিদ্ধান্ত উত্তরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য সুবিধাজনক নয়।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যৌক্তিক স্থানে সদরদপ্তর স্থাপনের দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে ভূজপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, হরতাল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।