নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বাড়ির বাসিন্দাদের দিকে অস্ত্র তাক করে ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাড়ির জায়গাজমি নিয়ে দুই ভাই মজিব উল্যাহ ও শরিফ উল্যাহর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সমাধান হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে মজিব উল্যাহর পরিবারের সদস্যরা কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে শরিফ উল্যাহর বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় লাঠি ও ইটপাটকেলের আঘাতে শরিফ উল্যাহর পরিবারের চারজন আহত হন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক একটি ঘরের সামনে অবস্থান করছেন। তাঁদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং তিনি বাড়ির দিকে অস্ত্র তাক করে আছেন। অন্য কয়েকজনকে লাঠি হাতে মারধর ও ইট ছুড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রধারী যুবককে গুলি চালানোর কথা বলতে শোনা যায়। বাড়ির ভেতর থেকে কয়েকজন নারীর চিৎকারও শোনা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হামলাকারীদের একজন প্রকাশ্যে গুলি ছুড়েছিলেন। তবে এতে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলাকারীদের কয়েকজন মুখোশ পরেছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম ওরফে সুমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক পক্ষ বহিরাগত অস্ত্রধারীদের নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি চালিয়েছেন।
এ ঘটনায় রাতে শরিফ উল্যাহর ছেলে মোবারক উল্যাহ বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন মো. ইসরাফিল (৩৪), মজিব উল্যাহ (৬৫) ও তোফায়েল আহমেদ (৬০)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ইসরাফিলকে ভিডিওতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা গেছে। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, পারিবারিক ও সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।
তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অডিও পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র হাতে থাকা প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।