শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> জিয়া হত্যাকাণ্ডের অমীমাংসিত অধ্যায় ও একটি স্বাধীন অনুসন্ধান কমিশনের প্রয়োজন

>> ছুটির দিনে ধসে পড়ল স্কুল ভবন, অল্পের জন্য এড়ানো গেল বড় দুর্ঘটনা

>> নতুনধারা বাংলাদেশ পার্টি জামাই-বউ পার্টি !

>> এখন আওয়ামী লীগ নেই, চাঁদাবাজির দায় নেবে কে?

>> জুলাই আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম সবাই অংশ নিয়েছিলেন; বাংলাদেশে আমরা মিলেমিশে থাকতে চাই।

>> এখন নেই চাঁদাবাজি, যানজটই বড় সমস্যা

>> আমরা জিতলেও আর্জেন্টিনা, হারলেও আর্জেন্টিনা—ভালোবাসা আজীবন।

>> শিক্ষামন্ত্রীকে আমার স্যালুট; তাঁর প'দত্যাগের কোনো প্রশ্নই আসে না

>> আমাদের কাছে মাতৃভূমি মানে মা, আমার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে

>> গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজধানী—আহামেদ সিকদার রানা

LIVE

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ মামলা হয়েছে—দাবি আইনজীবীদের
আপনি পড়ছেন : শিক্ষা

ছুটির দিনে ধসে পড়ল স্কুল ভবন, অল্পের জন্য এড়ানো গেল বড় দুর্ঘটনা


Sheikh Mojahidur Rahman ১৮ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৫:৩২



ছুটির দিনে ধসে পড়ল স্কুল ভবন, অল্পের জন্য এড়ানো গেল বড় দুর্ঘটনা

খুলনার কয়রা উপজেলার গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি পুরোনো দুইতলা একাডেমিক ভবনের বড় অংশ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ধসে পড়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, কারণ ওই দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। তবে ক্লাস চলাকালে এমন ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ২০০০ সালে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ছাদ ও পিলারে ফাটল, খসে পড়া পলেস্তারা, বেরিয়ে থাকা রড এবং বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ত পানির প্রভাবে ভবনটির কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ভেঙে নিচে পড়ে আছে। সামনের দিকের কয়েকটি পিলার, বিম ও দেয়াল ধসে গেছে। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে ইট, কংক্রিট ও লোহার স্তূপ। ভবনের অবশিষ্ট অংশও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার জানান, ছুটির দিনে ভবন ধসে পড়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, যা বড় ধরনের স্বস্তির বিষয়। তবে এখন শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক গোলাম রসুল বলেন, ভবনটি অনেক আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাঁর মতে, যদি বিদ্যালয় খোলা থাকাকালে এটি ধসে পড়ত, তাহলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এ কারণে অনেক অভিভাবক এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বর্তমানে মাধ্যমিক শাখায় প্রায় ২৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পাশের একতলা ভবনে মাধ্যমিক ও কলেজ—উভয় শাখার ক্লাস পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে শ্রেণিকক্ষের সংকট ও পাঠদানে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ভবনটি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, দুর্যোগের সময় সাইক্লোন সেন্টার হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। ভবন ধসে পড়ায় স্থানীয় মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশরঞ্জন মৃধা দ্রুত নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু এবং বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। ভবন ধসের পর বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি অস্থায়ী টিনশেড শ্রেণিকক্ষও নির্মাণ করা হবে। তবে কার্যাদেশ জারি না হওয়ায় এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই নতুন ভবনের কাজ শুরু করা যাবে।