রবিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬
২২ ভাদ্র ১৪৩৩

আপনি পড়ছেন : চাঁদপুর

চাঁদপুরে বেওয়ারিশ লাশ বহনের দুই অ্যাম্বুলেন্সই অচল, ভোগান্তি


Rabeya ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৫



চাঁদপুরে বেওয়ারিশ লাশ বহনের দুই অ্যাম্বুলেন্সই অচল, ভোগান্তি


চাঁদপুরে বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার হলে গোসল, কাফন ও দাফনের কাজে সহায়তা করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসান। লাশ পরিবহনের জন্য সংগঠনটির দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দুটিই অচল। ফলে বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে কাজ করা সরকারি সংস্থাগুলোকে পড়তে হচ্ছে বাড়তি বিড়ম্বনায়।

অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে লাশ অটোরিকশা, সিএনজি বা ভ্যানে করে পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে যেমন মরদেহ বহনে সমস্যা হচ্ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের জনভোগান্তি।

মাসে গড়ে পাঁচটি বেওয়ারিশ লাশ

সংগঠনটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর জেলায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় পাঁচটি বেওয়ারিশ লাশের দাফন আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসানের সহায়তায় করা হয়। কোনো মাসে এ সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে।

নৌ দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা বিভিন্ন থানা থেকে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন মরদেহের গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করে থাকে সংগঠনটি। এসব লাশ সাধারণত চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

দুই অ্যাম্বুলেন্সের একটিও সচল নেই

আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসানের বর্তমান সভাপতি রুহুল আমিন সরকার জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি অ্যাম্বুলেন্স কুমিল্লা থেকে এনে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেটি হাজীগঞ্জের একটি গ্যারেজে রয়েছে। অন্য অ্যাম্বুলেন্সটি পুরোনো হওয়ায় অনেক দিন ধরেই অচল।

তিনি জানান, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর একজন ব্যবস্থাপকও নিয়োগ করা হয়েছে। তবে আগের সময়ের আর্থিক হিসাবসহ বিভিন্ন নথি নতুন কমিটির হাতে পুরোপুরি নেই বলে তিনি দাবি করেন।

একটির দুর্ঘটনা, অন্যটি পড়ে আছে

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়। পরে ২০১৯ সালে আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স অনুদান হিসেবে পাওয়া যায়।

অনুদানের অ্যাম্বুলেন্সটি ২০২২ সালের মে মাসে কুমিল্লার চান্দিনা এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে ওই গাড়ি থেকে ৬০৯ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় কুমিল্লায় পড়ে থাকার পর গাড়িটি চাঁদপুরে এনে মেরামত করে চালু করা হয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওই অ্যাম্বুলেন্সের চালকের বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সর্বশেষ গত জুনের প্রথম সপ্তাহে মতলব এলাকায় আবারও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সটি। এরপর থেকে সেটি হাজীগঞ্জের একটি গ্যারেজে মেরামতের জন্য রয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৪ সালে কেনা অ্যাম্বুলেন্সটিও ২০২৪ সাল থেকে অচল। চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড মসজিদের পাশে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে সেটি রাখা হয়েছে।

মেরামতে প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা

সংস্থাটির ব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার জানান, প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্স মেরামতে আনুমানিক তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ মুহূর্তে সেই অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাঁর ভাষ্য, সংগঠনের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা থাকলেও তা উত্তোলনে জটিলতা রয়েছে। কারণ, ব্যাংকের লেনদেনের দায়িত্ব আগে যাঁর হাতে ছিল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। ফলে জরুরি প্রয়োজনেও অর্থ ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

পুলিশেরও বাড়তি ভোগান্তি

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, অধিকাংশ বেওয়ারিশ লাশের ময়নাতদন্তের প্রয়োজন হয়। দূরবর্তী এলাকা থেকে মরদেহ এলে অনেক সময় ব্যক্তিগত খরচে অটোরিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তা নিয়ে আসতে হয়।

কাছাকাছি এলাকার লাশ হলে পুলিশের নিজস্ব ডোমের সহায়তায় ভ্যানে করে মরদেহ পরিবহন করা হয়।

ফলে বেওয়ারিশ লাশ পরিবহনের জন্য নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স দুটি দ্রুত সচল করা গেলে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কাজ যেমন সহজ হবে, তেমনি পরিচয়হীন মরদেহের যথাযথ মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থাও আরও নির্বিঘ্ন হবে।