বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ইকুরিয়া বিআরটিএতে দালালচক্রের প্রভাবের অভিযোগ, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অনিয়মের দাবি

>> ওসমানী উদ্যানের অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন, প্রতিমন্ত্রী বললেন—‘পৃথিবীর কোথাও এমন দেখিনি’

>> ছেলের পর বাবাও খুন, আতঙ্কে পরিবার—‘মামলা করব না, পুলিশ যা করার করবে’

>> পটুয়াখালীতে বনের গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ, বন বিভাগের জিডি

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪২, মুচলেকায় মুক্ত

>> ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা আইভ্যাকের

>> ফেসবুক পোস্টের জন্য মৃত্যুদণ্ড, ছেলেকে ক্ষমার আবেদন মায়ের

>> আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়

>> কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

>> বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, ৯ এলাকায় বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর

আপনি পড়ছেন : গাজীপুর

বেক্সিমকোর শ্রমিকদের জীবনে অনিশ্চয়তা, কেউ চা বিক্রি করছেন, কেউ চালাচ্ছেন অটোরিকশা


Rabeya ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৩:১৮



বেক্সিমকোর শ্রমিকদের জীবনে অনিশ্চয়তা, কেউ চা বিক্রি করছেন, কেউ চালাচ্ছেন অটোরিকশা

 


গাজীপুরের কাশিমপুরের সারাবো এলাকায় বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিপাকে পড়েছেন হাজারো শ্রমিক। দীর্ঘদিনের কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে এবং নতুন চাকরি না পেয়ে অনেকেই জীবিকার জন্য পেশা পরিবর্তন করেছেন।

একসময় যাঁরা নিয়মিত বেতন পেতেন, তাঁদের কেউ এখন চা বিক্রি করছেন, কেউ বাজারে সবজি বা ফলের ব্যবসা করছেন। আবার কেউ সংসারের খরচ চালাতে অটোরিকশা চালাচ্ছেন। নতুন এসব কাজে আগের তুলনায় আয় কম হওয়ায় অনেক পরিবারের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।

একসময় ভোর হলেই বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ফটকে শ্রমিকদের ভিড় দেখা যেত। উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকত পুরো এলাকা। বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ, উৎপাদন লাইনও বন্ধ রয়েছে। বড় বড় ভবন ও যন্ত্রপাতি পড়ে আছে। কিছু স্থাপনায় সীমিতসংখ্যক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।

শিল্প পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের বিভিন্ন কারখানায় একসময় প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত কয়েক দফা ছাঁটাইয়ের পর তাঁদের বড় একটি অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েন।

এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিল্পপার্কের ১৪টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

বেক্সিমকোর সাবেক শ্রমিক মো. সোলাইমান এখন চক্রবর্তী বাজারে চা বিক্রি করছেন। তাঁর ভাষ্য, কারখানায় চাকরি করার সময় নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করেও আয় করা যেত। এখন সেই স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা নেই।

আরেক সাবেক শ্রমিক ওসমান আলীও দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজে ব্যর্থ হয়ে সবজি বিক্রি শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আগের চাকরির তুলনায় বর্তমান আয় অনেক কম। পরিবারের খরচ মেটাতে তাঁকে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের খাইরুল ইসলামও আগে বেক্সিমকো এলাকায় কাজ করতেন। এখন তিনি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তাঁর মতে, কারখানা চালু থাকলে এলাকায় মানুষের চলাচল বেশি থাকায় পরিবহন খাতেও আয় ভালো ছিল। কারখানা বন্ধ হওয়ার পর যাত্রী কমে যাওয়ায় অটোরিকশা চালিয়েও আগের মতো আয় হচ্ছে না।

পাওনা পরিশোধ হলেও ফেরেনি কর্মসংস্থান

কারখানা চালুর দাবিতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গাজীপুরে বেক্সিমকোর হাজারো শ্রমিক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। পরে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের মার্চে বন্ধ ১৪টি কারখানার ৩৩ হাজার ২৩৪ শ্রমিক ও কর্মচারীর বকেয়া পরিশোধে ৫২৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়।

তবে পাওনা পরিশোধের পরও নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়ায় অনেক শ্রমিককে ছোট ব্যবসা, পরিবহনসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হতে হয়েছে।

কারখানা চালুর উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য ২০২৫ সালে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। জাপানের রিভাইভাল এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইকোমিলির অর্থায়নে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের ১৪টি কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে ২৫ হাজারের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বেক্সিমকো কর্তৃপক্ষের সূত্র বলছে, শিল্পপার্কের সংকটের পেছনে বড় অঙ্কের ঋণ এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতা রয়েছে।

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক মো. আবদুল লতিফ জানান, বন্ধ কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকারের সহযোগিতাও চাওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কারখানাগুলো কবে আবার উৎপাদনে ফিরবে, সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সাবেক শ্রমিকদের অনেকেই এখন নতুন পেশায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। নিয়মিত চাকরি ও নির্দিষ্ট বেতনের বদলে অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলছে তাঁদের সংসার।