সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, বিএনপিকে দায়ী করলেন নাহিদ ইসলাম

>> রেমিট্যান্সের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য, তবু আরবি ভাষা প্রশিক্ষণে অবহেলা কেন?

>> এলপিজির দাম এক লাফে বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৮৩৭ টাকা

>> আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার এই হাল কেন?

>> সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুই বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আটক ২

>> ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে সেলিম উদ্দিন ও সাদিক কায়েমের নাম জানাল জামায়াত

>> ডাববোঝাই নছিমন অতিক্রম করতে গিয়ে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল তিন মোটরসাইকেল আরোহীর

>> একাধিক দেশের নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি প্রায় একই রকম কেন?

>> চট্টগ্রাম বন্দরের ৯ কনটেইনারে বিপজ্জনক রাসায়নিক, ধ্বংস হবে রূপগঞ্জে

>> গাজীপুরে সোয়েটার কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৯ ইউনিট

আপনি পড়ছেন : ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: পাঁচ সিঁড়ির চারটিই ছিল তালাবদ্ধ


Rabeya ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১২



ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: পাঁচ সিঁড়ির চারটিই ছিল তালাবদ্ধ


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সময় পাঁচটি সিঁড়ির মধ্যে চারটিই তালাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুন লাগার পর রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা দ্রুত নিচে নামতে গিয়ে এসব সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেননি। ফলে একটি সিঁড়ি দিয়ে একসঙ্গে অনেক মানুষ বের হওয়ার চেষ্টা করায় আতঙ্ক ও ভোগান্তি বেড়ে যায়।

মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালটিতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চারটি সিঁড়ি বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই দুটি সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আটতলা নতুন ভবনে সাতটি লিফটের পাশাপাশি পাঁচটি সিঁড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিঁড়ি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। অন্য চারটি সিঁড়ির বিভিন্ন তলার প্রবেশপথে গ্রিল বসিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনদের কয়েকটি গেট ভেঙে বের হতে হয়েছে।

হৃদ্‌রোগ বিভাগের এক নার্স জানান, একটি সিঁড়ি দিয়ে অনেক রোগী একসঙ্গে নামার সময় কয়েকজন আহত হন। তাঁর মতে, সব সিঁড়ি খোলা থাকলে মানুষের বের হওয়ার পথ আরও সহজ হতো।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও স্বজনেরাও অগ্নিকাণ্ডের সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, ধোঁয়া ও আগুনের আতঙ্কে সবাই দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তালাবদ্ধ গেট থাকায় অনেকেই আটকা পড়ার আশঙ্কায় পড়েন। কোথাও কোথাও রোগী, বেড ও বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে সিঁড়িতে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়।

হাসপাতালের প্রশাসনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, নতুন ভবনে পাঁচটি সিঁড়ি ও সাতটি লিফট রয়েছে। সাতটি লিফটের একটি আগেই বিকল ছিল এবং সেটি মেরামতের কাজ চলছিল। ওই লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত ব্যবহারের বাইরে থাকা সিঁড়িগুলো নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রাখা হতো। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর সিঁড়িগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, লিফটের কন্ট্রোল বোর্ড ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অংশে আগুনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত তাপ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। লিফটের কেব্‌লের মাধ্যমে আগুন ওপর-নিচে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় ১১ নম্বর লিফটটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ ছিল। তবে লিফট বন্ধ থাকলেও এর বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। ফলে কন্ট্রোল রুমের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু ছিল। আগুনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্তে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিটের সম্ভাবনার কথা জানালেও আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।