ছোটবেলায় পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার পরিকল্পনাই ছিল না ইয়েলেনা রিবাকিনার। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতেই টেনিসের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। ১৭ বছর বয়সে এসে পেশাদারভাবে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর কঠোর পরিশ্রম আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেন বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ সারিতে।
এবার সেই পথচলায় যোগ হলো আরও বড় অর্জন। ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ঝেং কিনওয়েনকে ৩–৬, ৬–১, ৬–৪ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন রিবাকিনা। প্রায় দুই ঘণ্টা ১৪ মিনিটের লড়াই শেষে পাওয়া এই জয় তাঁকে নিয়ে গেছে কাজাখস্তানের টেনিস ইতিহাসের অনন্য এক উচ্চতায়।
সেমিফাইনালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চিত হয়েছে, আগামী র্যাঙ্কিংয়ে রিবাকিনাই হবেন মেয়েদের টেনিসের নতুন বিশ্বসেরা। এর মাধ্যমে কাজাখস্তানের প্রথম নারী খেলোয়াড় হিসেবে ডব্লিউটিএ র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠতে যাচ্ছেন তিনি।
তবে এত বড় অর্জনের পরও রিবাকিনার চোখ এখন র্যাঙ্কিংয়ে নয়, ইউএস ওপেনের শিরোপায়। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডনে একটি করে গ্র্যান্ড স্লাম জেতা এই তারকার ফ্রেঞ্চ ওপেনে সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল। ইউএস ওপেনে এবারই প্রথম সেমিফাইনালে উঠেছেন। তাই নিউইয়র্ক থেকে আরও একটি গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
রিবাকিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের তারকা কোকো গফ। কোয়ার্টার ফাইনালে মিরা আন্দ্রিভার বিপক্ষে প্রথম সেটে হেরে গেলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে ২–৬, ৭–৬ (৯–৭), ৬–২ গেমে জয় পান গফ। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে রিবাকিনা-গফ মুখোমুখি হচ্ছেন।
এবারের ইউএস ওপেনে শীর্ষ চার বাছাই খেলোয়াড়ই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। রিবাকিনার পাশাপাশি শেষ চারে আছেন আরিনা সাবালেঙ্কা, জেসিকা পেগুলা ও কোকো গফ।
রিবাকিনার উত্থান আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত বছর চোট, শারীরিক সমস্যা ও পারফরম্যান্সের ঘাটতির কারণে তিনি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি স্টুটগার্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এবং ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও টরন্টোয় রানার্সআপ হয়েছেন।
ইউএস ওপেনের আগে অবশ্য আবারও চোটের ধাক্কা খেয়েছিলেন রিবাকিনা। সিনসিনাটি ওপেনে ইগা শিয়নটেকের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে চোট পেয়ে তাঁকে ম্যাচ ছেড়ে দিতে হয়েছিল। এরপর কয়েক দিন অনুশীলনও করতে পারেননি। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে নিউইয়র্কে এসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন তিনি।
কাজাখস্তানে রিবাকিনার এই সাফল্যের প্রভাবও বেশ বড়। দেশটির অনেক তরুণ এখন টেনিসের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন এবং রিবাকিনাকে অনুসরণ করছেন। তাঁর মতে, নিজের ওপর আস্থা রাখা এবং কঠোর পরিশ্রম করাই সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
বিশ্বসেরা হওয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে রিবাকিনার সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য—ইউএস ওপেনের শিরোপা। র্যাঙ্কিংয়ের সিংহাসন নিশ্চিত হলেও তাঁর মনোযোগ আপাতত কেবল পরের ম্যাচেই।