জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলোর আবাসন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলো কী ধরনের থাকার ব্যবস্থা ও ভেন্যু সুবিধা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এসব উদ্বেগের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী নাওকি অ্যালেক্স মিয়াজি। তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেট দলগুলো চাইলে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী হোটেল বেছে নিয়ে থাকার ব্যবস্থা করতে পারবে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে মিয়াজি বলেন, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরেই আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস আয়োজক কমিটির সঙ্গে দলগুলোর আবাসন নিয়ে আলোচনা করছে। ক্রিকেটারদের জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কিছু খেলার দলের জন্য তুলনামূলক সীমিত আবাসন সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের কেউ ক্রুজ শিপে, আবার কেউ কনটেইনার হোটেলে অবস্থান করবেন।
তবে ক্রিকেট দলগুলোর ক্ষেত্রে চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকার সুযোগও রাখা হয়েছে।
নাগোয়ার পূর্বদিকে অবস্থিত নিসশিন শহরের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটের ম্যাচগুলো। কয়েক মাস আগেও জায়গাটি বেসবল মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গত মার্চে মাঠটিকে ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়।
খেলোয়াড়দের জন্য ভেন্যুতে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে, সেটিও জানিয়েছেন মিয়াজি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রেসিংরুম বা খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট এলাকায় টয়লেটসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হবে।
ভেন্যুতে স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের অবকাঠামো থাকবে। সীমিত সময়ের মধ্যে মাঠ প্রস্তুত করতে হওয়ায় কিছু সুবিধা অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে। তারপরও ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের জন্য যতটা সম্ভব আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
মিয়াজি জানান, ক্রিকেটের জন্য মাঠটি প্রস্তুত করতে আয়োজকদের সময় পেয়েছেন মাত্র ১৭ মাস। কার্যত শূন্য থেকে শুরু করে এত অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যু তৈরি করতে হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়ে মাঠটিতে ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু হয়।
মাঠের আকার হবে পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট মাঠের মতো। সেখানে টার্ফ ও হাইব্রিড—দুই ধরনের পিচ থাকবে। পিচ তৈরিতে অভিজ্ঞ কিউরেটররা কাজ করেছেন। এ ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছেন মিয়াজি।
এশিয়ান গেমসে মেয়েদের ক্রিকেট হবে ১৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ছেলেদের প্রতিযোগিতা চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর।
ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি নকআউট পর্ব থেকে টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরু করবে। ভারতের নেতৃত্বে থাকবেন শ্রেয়াস আইয়ার। পাকিস্তানও মূল দলের একাধিক ক্রিকেটারকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর দলটির নেতৃত্ব দেবেন সাহিবজাদা ফারহান।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাও শক্তিশালী দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকায় আবাসন, ড্রেসিংরুম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আগ্রহও বেড়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, সীমিত সময় ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ক্রিকেটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।