বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪২

>> যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি সর্বোচ্চ, তবে কমেনি বিশ্ববাজারের দাম

>> বাবার অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র, পরে মিলল ব্যাটারিবিহীন রিকশা

>> রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নে আটকে আছে ৭ ইসলামী দলের ঐক্য

>> কোমরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৭ কোটি টাকার স্বর্ণ, যুবক গ্রেপ্তার

>> মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

>> চট্টগ্রামে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে হত্যা, আটক ৫

>> মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

>> একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সরকার

>> পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত

আপনি পড়ছেন : অর্থনীতি

ভারতে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্তের মুখে বাংলাদেশের পিইটি ফিল্ম, ৬ আগস্ট শুনানি


৩১ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৪:২৬



ভারতে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্তের মুখে বাংলাদেশের পিইটি ফিল্ম, ৬ আগস্ট শুনানি

বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্ম নিয়ে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে ভারত। এ বিষয়ে আগামী ৬ আগস্ট ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে মৌখিক শুনানির আয়োজন করেছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর (ডিজিটিআর)। একই তদন্তে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন ও থাইল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ, এই তিন দেশ থেকে পিইটি ফিল্ম অস্বাভাবিক কম দামে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করছে, যার ফলে স্থানীয় শিল্প ক্ষতির মুখে পড়ছে। অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে ডিজিটিআর। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

পিইটি ফিল্ম খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্যের প্যাকেজিংয়ে বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান। বাংলাদেশে এটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যের মধ্যে অন্যতম এবং ভারতের বাজার এ পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।

শুনানিতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, ভারতীয় উৎপাদক, আমদানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। এ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছে আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড এবং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন। অন্যদিকে ভারতের আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চিরিপাল পলি ফিল্মস, ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভ্যাকমেট ইন্ডিয়া।

ভারতের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুনানিতে অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিচয় ও যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে। মৌখিক শুনানির পর লিখিত বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রও দাখিল করতে হবে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই তদন্ত দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পিইটি ফিল্ম রপ্তানির বড় একটি বাজার ভারত। তদন্ত শেষে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে ভারত সরকার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তদন্তও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করবে এবং ভারতের কাছে এই পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ না করার অনুরোধ জানাবে।

এদিকে বাংলাদেশের অন্যতম রপ্তানিকারক আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে পণ্য রপ্তানি করে এবং কোনো ধরনের ডাম্পিং করেনি। শুনানিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, এটি বাংলাদেশি পণ্যের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত নয়। এর আগে পাট ও পাটজাত পণ্য, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডসহ কয়েকটি পণ্যের ওপর ভারত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। এছাড়া ফ্লোট গ্লাস ও ফিশিং নেট নিয়েও তদন্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন খরচের নিচে দামে পণ্য রপ্তানি করছে—এমন অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাঠামোর মধ্যেও বাংলাদেশ এ বিষয়ে প্রতিকার চাইতে পারে।