পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নিহত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রানী রথ। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে বিজেপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিছিল করে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে যান হাসি রানী রথ। পরে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে দুই কোটি রুপি চুক্তিতে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চন্দ্রনাথ রথ গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের বাসস্থানে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়ে গুলি করে হত্যা করে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছিল।
এর আগে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার নারী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথকেও প্রার্থী করেছিল বিজেপি। নন্দীগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের মাকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে একই ধরনের রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একই নির্বাচনে তিনি কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকেও জয় পান। দুটি আসনে জয়ী হওয়ায় পরে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। এ কারণেই আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। রেজিনগর আসনটিও খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায়।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও দলীয় প্রতীক নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। দলটির বিবদমান দুই পক্ষই ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের পাঁচজন করে মোট ১০ সদস্যের বক্তব্য শুনেছে। তবে কোন পক্ষ ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
কমিশন দুই পক্ষকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অতিরিক্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এসব নথি পর্যালোচনার পর প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক কোনো এক পক্ষকে দেওয়া হবে, নাকি প্রতীকটি স্থগিত রেখে দুই পক্ষকে আলাদা প্রতীকে নির্বাচন করতে বলা হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।