বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে

>> রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগ, শিক্ষকসহ দুজন অব্যাহতি

>> বাসে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

>> বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহত, কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ

>> সাভারে বাসে অগ্নিসংযোগ: বাসমালিক, সাংবাদিকসহ ৪০ জনের নামে মামলা

>> সাভারে বাসে অগ্নিসংযোগ: বাসমালিক, সাংবাদিকসহ ৪০ জনের নামে মামলা

>> ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, ১০৩ প্রতিষ্ঠানের অনাপত্তিপত্র বাতিল

>> ফুটবলে অরুচি না ধরলেও অন্য খেলায় মন মজেছে কেইনের

>> যেখানেই এনসিপিকে পাওয়া যাবে, সেখানেই লাঠিপেটা দেওয়া হবে: সিলেটে বিএনপি নেতা

>> তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে, কোন দিকে যাচ্ছে বাজার

আপনি পড়ছেন : ধর্ম

আত্মশুদ্ধির পথে নিভৃত ইবাদতের গুরুত্ব


Rabeya ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৩৭



আত্মশুদ্ধির পথে নিভৃত ইবাদতের গুরুত্ব


মানুষের বাহ্যিক সাফল্য সবসময় তার অন্তরের অবস্থার প্রতিফলন নয়। সমাজে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা প্রভাব, সম্পদ কিংবা পরিচিতির দিক থেকে সফল হলেও আত্মিকভাবে অস্থির ও শূন্যতায় ভুগতে পারেন। আবার ইতিহাসে এমন বহু মানুষও ছিলেন, যাঁদের সামাজিক পরিচিতি খুব বেশি ছিল না; কিন্তু অন্তরের পরিশুদ্ধি ও স্রষ্টার প্রতি গভীর আনুগত্যের কারণে তাঁরা অর্জন করেছেন অনন্য মর্যাদা।

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের প্রকৃত সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো আত্মশুদ্ধি বা তাজকিয়াতুন নাফস। অন্তর যখন অহংকার, হিংসা, লোভ, বিদ্বেষ ও আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে মুক্ত হতে থাকে, তখন মানুষের চিন্তা, কথা, আচরণ এবং অন্যের সঙ্গে সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

পবিত্র কোরআনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দায়িত্বের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আত্মশুদ্ধির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “তিনিই সেই সত্তা, যিনি নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসুল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতগুলো পাঠ করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন।” —সুরা জুমুআ, আয়াত ২।

এই আয়াতে কোরআনের শিক্ষা ও প্রজ্ঞা প্রদানের পাশাপাশি মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সেই জ্ঞানকে ধারণ করার মতো নির্মল অন্তরও প্রয়োজন।

আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রে নিভৃত ইবাদতের গুরুত্ব অনেক। মানুষের সামনে ইবাদত করলে সেখানে প্রশংসা, পরিচিতি কিংবা লোকদেখানোর প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু নির্জনে আল্লাহর ইবাদত মানুষকে নিজের অন্তরের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেয়। সেখানে বাহ্যিক প্রদর্শনের সুযোগ কম থাকে এবং নিজের দুর্বলতা, ভুল ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভাবার অবকাশ তৈরি হয়।

নিভৃত সময়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের অন্তরকে পর্যালোচনা করতে পারেন। দিনের ব্যস্ততা ও মানুষের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে কিছু সময় আল্লাহর স্মরণে কাটানো আত্মিক প্রশান্তি ও আত্মসংযম বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

নির্জন ইবাদতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা। মানুষ যখন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোনো আমল করেন এবং তা প্রচারের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তখন তার মধ্যে আন্তরিকতা গড়ে ওঠে। এই গোপন আমল ধীরে ধীরে আত্মপ্রশংসা ও লোকদেখানোর মানসিকতা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

আত্মশুদ্ধি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হলে তার প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রের আচরণেও। অন্যের প্রতি সহানুভূতি, ক্ষমাশীলতা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও ন্যায়বোধ তখন আরও দৃঢ় হয়।

তাই নিভৃত ইবাদতকে শুধু একান্ত ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি নিজের অন্তরকে যাচাই, নিয়তকে সংশোধন এবং চরিত্রকে উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। মানুষের বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে অন্তরের অবস্থাই যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—আত্মশুদ্ধির সাধনা সেই সত্যকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়।