ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ইফা) বোর্ড অব গভর্নরস পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন বোর্ডে সরকারি ও বিরোধী দলের দুই সংসদ সদস্যের পাশাপাশি তিনজন নতুন আলেমকে গভর্নর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. জেহাদুল বারী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকার মনোনীত দুই সংসদ সদস্য বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য হয়েছেন। তাঁরা হলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার (গাইবান্ধা-৪) এবং শাহজাহান চৌধুরী (কক্সবাজার-৪)।
পুনর্গঠিত বোর্ডে আলেমদের মধ্যে পাঁচজন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন এবার নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন।
নতুন তিন গভর্নর হলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা ঢাকার অধ্যক্ষ মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মারকাজুল হুদা আল-ইসলামী বাংলাদেশের মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মুফতি আজহারুল ইসলাম এবং নূরে মদিনা আল-আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও সম্মিলিত ইমাম-খতিব পরিষদের মহাসচিব মুফতি শরীফ উল্লাহ।
আগের বোর্ড থেকে দায়িত্বে থাকা দুই আলেম হলেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চরমোনাই আহসানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী।
পদাধিকারবলে ধর্মমন্ত্রী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া পদাধিকারবলে বোর্ডের গভর্নর হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বোর্ডের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদাধিকারবলে দায়িত্ব পাওয়া গভর্নরদের বাইরে অন্য গভর্নরদের মেয়াদ হবে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে তিন বছর।
তবে তিন বছর শেষ হওয়ার পরও সরকার তাঁদের স্থলে নতুন গভর্নর মনোনয়ন না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন।
এ ছাড়া সরকার প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় পদাধিকারবলে নিয়োগ পাওয়া গভর্নর ছাড়া অন্য কোনো গভর্নরকে পরিবর্তন করতে পারবে। প্রয়োজনে তাঁদের পদ শূন্যও ঘোষণা করার ক্ষমতা সরকারের থাকবে।