বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাজধানীতে হাঁড়ি-পাতিল হাতে জামায়াতের বিক্ষোভ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ

>> জামায়াতের কাছে সহায়তা চেয়েও পাননি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

>> শামীম হত্যা মামলায় যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড

>> শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতায় ঝুঁকিতে শিল্প খাত: এবি পার্টি

>> জামিনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমনির বাগ্‌বিতণ্ডা

>> মিরপুরে ২০টি ককটেলসহ মশাল লাঠি ও কেরোসিন উদ্ধার

>> কুর্মিটোলায় পুলিশের টহল গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ, আহত কনস্টেবল

>> শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, সরকারকে চাপে ফেলার অভিযোগ

>> কর্মস্থলে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকেরা, শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

>> এক দিনের সফরে মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুলনায়ও রয়েছে কর্মসূচি

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

জামায়াতের কাছে সহায়তা চেয়েও পাননি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম


Sifat Islam Sohag ৫ নভেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪:৪১



জামায়াতের কাছে সহায়তা চেয়েও পাননি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম


রাজনৈতিক সহিংসতায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে অসুস্থতা, চিকিৎসা ব্যয় ও আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন সাব্বির প্রামাণিক। একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় নেতা থাকলেও দুঃসময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কাছে চাকরির জন্য বারবার যোগাযোগ করেও সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ তার। এমনকি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে খোলা চিঠি লিখেও সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমে তার জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশের পর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সাব্বিরকে একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা এবং মাছের খামার দেখাশোনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মানজনক পদে নিয়োগের পাশাপাশি ভালো বেতনও পাচ্ছেন তিনি। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে তার পরিবারে।

জানা গেছে, সাব্বিরের জীবনসংগ্রাম নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে আসে। এরপর তার কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন তিনি। পরে সাব্বিরকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

চাকরি পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সাব্বির বলেন, চাকরির জন্য তিনি জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে বহুবার গিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পেলেও শেষ পর্যন্ত চাকরি পাননি। তার অভিযোগ, আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন এবং ভালো বেতন দিচ্ছেন। নতুন চাকরিতে তার পরিবার এখন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাব্বিরের দুর্দশার শুরু ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতায় গুরুতর আহত হন তিনি। একই ঘটনায় তার সহকর্মী শিবির নেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হার্ট, ফুসফুস, কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। শরীরে দিতে হয়েছে ৬৪টি সেলাই। একপর্যায়ে সংবাদপত্রে তাকে মৃত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

দীর্ঘ চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও শারীরিক জটিলতা থেকে যায়। স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফেরার চেষ্টা করেও সফল হননি। জীবিকার প্রয়োজনে অটোরিকশা চালানো শুরু করলেও অসুস্থতার কারণে বেশিদিন সেই কাজ করতে পারেননি। একদিকে চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণ—সব মিলিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার।

এ পরিস্থিতিতে নিজের দুরবস্থার কথা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন সাব্বির। একসময় সংগঠনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ভূমিকা রাখলেও দুঃসময়ে যথাযথ চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহযোগিতা পাননি বলে চিঠিতে অভিযোগ করেন তিনি। চাকরির জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা মেলেনি বলে জানান সাব্বির।

দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও কর্মহীনতার কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন চাকরিটি সাব্বিরের জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছে। এতে তার পরিবারের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। নতুন কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন ১৩ বছর ধরে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা সাব্বির।