গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটের পর একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন হচ্ছে—এ নিয়ে সরকারের কাছে তিনটি প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্নগুলো তুলে ধরেন। তাঁর প্রশ্নগুলো হলো—আগের গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক অবস্থান কী, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পরিবর্তে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন গণভোটের প্রয়োজন কেন হয়েছে এবং নতুন গণভোটের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি কী।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসংক্রান্ত গণভোটে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তাঁর মতে, আগের গণভোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর ও বহাল থাকলে একই বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন হচ্ছে, তা সরকারের ব্যাখ্যা করা উচিত। আর আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হলে তার সাংবিধানিক ভিত্তি এবং কোন আইন বা প্রক্রিয়ায় বিষয়টি আবার জনগণের সামনে নেওয়া হচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণভোটের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে শুধু নতুন গণভোটের কথা বললে বিষয়টি পরিষ্কার হয় না। জনগণ একবার কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে সেই সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক মর্যাদা, কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের বিষয় আগে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এসব প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিলে জনগণ বিষয়টি মূল্যায়ন করবে। আগের গণভোটের সাংবিধানিক অবস্থান পরিষ্কার না করে নতুন গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ, বর্জন বা পুনর্বিবেচনার বিষয় হওয়া উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের ভোটের পর রাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্তকে কীভাবে বাস্তবায়ন করে, সেটিই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।