সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেন ঠেকাতে ঢাকায় প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাবরেজিস্ট্রার বিভাগকে দেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে ঢাকায় পদায়ন পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতেই বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে লটারি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, লটারি পদ্ধতি চালুর পর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিচারব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি মেরামতের কাজ চলছে এবং এতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক ও সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ কয়েকজন বিচারকের বিরুদ্ধে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির’ অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর প্রভাব দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর পড়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের শাসনামলে দেশের বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেটি সংস্কারের চেষ্টা করছে। এ কাজে জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। অতীতে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রতিশোধের রাজনীতি না করার নীতিতে সরকার অটল রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাক্স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, মানুষের মতপ্রকাশ ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে হলুদ সাংবাদিকতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তির চরিত্র হননের মতো প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দাবিও উঠছে।
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ সংশোধনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। আইনটি আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন মনে হওয়ায় সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিল। তবে বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবটি আরও যাচাইয়ের জন্য একটি সাব-কমিটিতে পাঠিয়েছেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের পরামর্শ ও উদ্বেগও সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হবে।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানান আইনমন্ত্রী। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
আসাদুজ্জামান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নেবে না। নিজের এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার কোনো ধরনের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিতে চায় না।
সভায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।