বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
৪ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাজউকের পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

>> রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন? তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের দাবি

>> কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

>> দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির পর স্বামীর জানাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত

>> ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদ্রাসাছাত্রদের সংঘর্ষ, আহত ৩০

>> শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক আটক

>> জামায়াত কখনোই মেইনস্ট্রিম রাজনৈতিক দল হতে পারবে না: নুরুল হক নুর

>> ইরান ইস্যুতে ক্ষোভ, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া সীমিত করার নির্দেশ ট্রাম্পের

>> নতুন সরকারের ছয় মাস: নাগরিকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব

>> ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিল নিয়ে প্রশ্ন

আপনি পড়ছেন : রাজনীতি

স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা হয়নি—দাবি জামায়াত আমিরের


৩০ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৫:৫২
স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা হয়নি—দাবি জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত সরকারের সময় দলটির বহু নেতা-কর্মী নিহত, নির্যাতিত এবং সম্পদ হারানোর শিকার হলেও জামায়াত কখনো ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার পথে যায়নি। তাঁর দাবি, দলটি প্রকাশ্যেই স্বৈরশাসনের বিরোধিতা করেছে এবং কোনো অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহতদের সম্মানে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই জামায়াত তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। দলটি নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও কর্মীদের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, সে সময় কিছু রাজনৈতিক দল আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও জামায়াত প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন সফল হওয়ার পরও জামায়াত কখনো আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করেনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, ৬ আগস্টের পর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন নিয়েও দলটি ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তনের পর কিছু ব্যক্তি চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমান প্রশাসনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, এতে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্য গুরুত্ব পাচ্ছে, যা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য পূরণে গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিচার হতে যত সময়ই লাগুক, তা সম্পন্ন হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দলটি অনড় থাকবে। সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচিও বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী গণভোটের ফল বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এতে জাতীয় ঐক্য জোরদার হতে পারে। সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন। তারা জুলাই-সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আহতদের পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। এছাড়া দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, আইনজীবী, সাবেক আমলা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।