নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নদীর পাড়ে বেড়াতে আসা এক তরুণ ও তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে শাস্তি দেওয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভূঁইয়ারহাটসংলগ্ন মেঘনার শাখা নদীর তীরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে নদীটি ‘মরা মেঘনা’ নামে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে ওই এলাকায় বেড়াতে আসা তরুণ-তরুণীকে কয়েকজন যুবক হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে তরুণ-তরুণীকে ঘিরে কয়েকজনকে অশালীন মন্তব্য করতে দেখা যায়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের কান ধরে ওঠবস করানোর পর নদীতে নেমে ৫০ বার ডুব দিতে বলা হয়। পরে তাঁরা নদীতে গিয়ে ডুব দেন।
এরপর দুই যুবককে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেয়।
অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের একজন আবির হোসেন। তিনি নিজেকে সুবর্ণচর উপজেলা চরবাটা ইউনিয়ন প্রযুক্তি দলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। সেই কারণেই অভিযুক্তদের ধরে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে এভাবে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল হাসান জানান, তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগে দুই যুবককে আটকের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হয়।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান জানান, হেনস্তার ঘটনাটি প্রায় তিন মাস আগের হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। তাই পুলিশকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তদের স্থানীয়ভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। পুরোনো ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী কীভাবে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।