ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবেন না বলে জানিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করতে আইনজীবীরা সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।
রোববার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এত অল্প বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে আইনজীবীদের দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা তাঁরা দেখছেন না।
তিনি আরও বলেন, সমিতির কোনো আইনজীবী গ্রেপ্তার আসামিকে আইনি সহায়তা দেবেন না। বরং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
এর আগে রোববার দুপুরে নিহত শিশুর মা ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে যান। তাঁরা লিখিতভাবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবীকে মামলা পরিচালনা না করার অনুরোধ জানান।
পরে নিহত শিশুর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যানার নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটি আশুগঞ্জের একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে পড়ত। গত শুক্রবার শিশুটির বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ওই সময় অভিযুক্ত তরুণ পানি আনার কথা বলে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে মারধর করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক হাজার মানুষ তাঁকে ঘিরে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হেলমেট পরিয়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় শিশুটির দূরসম্পর্কের এক চাচাকে আসামি করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম আদালত) ওমর ফারুক তাঁর জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন। এরপর শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে অভিযুক্তকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।