সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসার অভিযোগে স্থানীয় দুই ভাইয়ের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাদক কিনতে আসার অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার রাতে উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের মালীর মোড়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজর আলী ও তাঁর ভাই আইয়ুব আলীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তবে ফজর আলীর পরিবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আটক দুই যুবক হলেন ধুলিহর ইউনিয়নের কাশীনাথপুর গ্রামের তপন সরকার (২৭) ও দৌলতপুর গ্রামের সাগর সরকার (২৩)। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজর আলী ও আইয়ুব আলীর বাড়িতে মাদক কেনাবেচা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে মাদক কিনতে আসা দুই ব্যক্তির সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এরপর শনিবার রাতে আরও দুই যুবক মাদক কিনতে এলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করেন। পরে ফজর আলী ও আইয়ুব আলীর বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান শিমুল ঘটনাস্থল থেকে ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারও করেন।
মেহেদী হাসানের দাবি, ক্ষুব্ধ লোকজন বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় বাড়ির নারীরা তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। ঘর থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে একজন ফজর আলীর স্ত্রীর একটি স্বর্ণের চুড়ি ফিরিয়ে দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় শিক্ষক আবু ওয়াহিদ বলেন, এলাকায় মাদক কেনাবেচা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় লোকজন একত্র হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচা চলত।
তবে ফজর আলীর স্ত্রী মমতাজ খাতুন মাদক বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাস্তায় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিরোধের জেরে লোকজন বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় ঘরের আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করা হয় এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুট করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পাশের ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান জানান, দুই যুবক গাঁজা কিনতে এসেছেন—এমন অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুর রহমান জানান, আটক দুই যুবকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা মামলা করতে চাইলে পুলিশ তাঁদের আইনি সহযোগিতা দেবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাতক্ষীরা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান রাজিব বলেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা নারীদের হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই।
তিনি আরও বলেন, মাদক কেনাবেচার অভিযোগের পাশাপাশি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।