শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> প্রথমবার আকাশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ

>> এলএনজি কার্গো আসায় বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ, তবে সংকট কাটতে লাগবে আরও সময়

>> বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪: উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলামকে ঘিরে ঘুষ ও সম্পদের অভিযোগ

>> সড়কে স্লিপার কোচ: অনুমোদন, নিরাপত্তা ও আমদানি নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

>> বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ ও সমাজ গঠনে কাজ করছেন আয়মান হোসেন অপু

>> সিলেটে প্রদীপের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় সংখ্যালঘু পরিবার

>> ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২তম বার্ষিকী, আজও অম্লান শহীদদের স্মৃতি

>> ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ: ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

>> রাজউকের পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

>> রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন? তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের দাবি

আপনি পড়ছেন : জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকার খাল পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ


Rabeya ২ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৫:১৮



জয়পুরহাটে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকার খাল পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত খাল পুনঃখনন প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ না করে দায়সারাভাবে খনন দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক নিয়োগের পরিবর্তে ভারী যন্ত্র ব্যবহার, সরকারি গাছ কাটা এবং প্রকল্পের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগও সামনে এসেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, রোয়াইর স্লুইসগেট থেকে বানদীঘি পর্যন্ত খাল পুনঃখননের কাজ দুই ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ১০ কিলোমিটার খননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা। পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও প্রায় ৫ দশমিক ৯ কিলোমিটার খননের জন্য অতিরিক্ত ৭১ লাখ ১৫ হাজার টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

সরেজমিনে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নির্ধারিত গভীরতা ও প্রস্থ বজায় রাখা হয়নি। অনেক জায়গায় খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা অনুমোদিত নকশার তুলনায় কম রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও শুধু ওপরের পলি অপসারণ করেই কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে খনন করা মাটি আবার খালে ভেঙে পড়ছে।

এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় ব্যয়, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও কাজের সময়সীমা উল্লেখ করে কোনো তথ্যফলক দেখা যায়নি। কার্যাদেশে উল্লেখ থাকা রেফারেন্স বেড ব্লক (RBB) এবং টেম্পোরারি বেঞ্চ মার্ক (TBM) নির্মাণেরও কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কাগজে-কলমে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক দেখানো হলেও বাস্তবে পুরো কাজ এক্সকাভেটর দিয়ে করা হয়েছে। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এলাকার দরিদ্র মানুষ। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ের বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার অভিযোগও করেছেন তারা। ওই গাছ বিক্রির অর্থ সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

তবে প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা ও এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর স্বীকার করেন, খননকাজে শ্রমিকের পরিবর্তে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও প্রকল্পের অন্যান্য বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

অন্যদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম দাবি করেন, সরকারি নকশা অনুসরণ করেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে কিছু জায়গায় সামান্য সমন্বয় করা হলেও কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

কালাই উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত পরিমাপ ও মূল্যায়ন করা হবে। কোথাও কাজের ঘাটতি ধরা পড়লে সে অনুযায়ী বিল সমন্বয় করে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।