বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাজধানীতে হাঁড়ি-পাতিল হাতে জামায়াতের বিক্ষোভ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ

>> জামায়াতের কাছে সহায়তা চেয়েও পাননি, শিবিরকর্মীকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

>> শামীম হত্যা মামলায় যুবদল নেতা ভদুর তিন দিনের রিমান্ড

>> শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতায় ঝুঁকিতে শিল্প খাত: এবি পার্টি

>> জামিনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমনির বাগ্‌বিতণ্ডা

>> মিরপুরে ২০টি ককটেলসহ মশাল লাঠি ও কেরোসিন উদ্ধার

>> কুর্মিটোলায় পুলিশের টহল গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ, আহত কনস্টেবল

>> শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, সরকারকে চাপে ফেলার অভিযোগ

>> কর্মস্থলে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকেরা, শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

>> এক দিনের সফরে মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুলনায়ও রয়েছে কর্মসূচি

আপনি পড়ছেন : খেলা

জার্সি থেকে ফুটবল, বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে কেন চীনের দাপট


Rabeya ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৩৫



জার্সি থেকে ফুটবল, বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে কেন চীনের দাপট


ফুটবল, ক্রিকেটের ব্যাট-প্যাড-গ্লাভস, ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট থেকে শুরু করে ট্রেডমিল ও ওজন তোলার সরঞ্জাম—বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে চীনা পণ্যের উপস্থিতি এখন ব্যাপক। রাজধানীর গুলিস্তান-পল্টনের দোকান থেকে বড় শোরুম ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র—বিভিন্ন জায়গায় চীনে তৈরি ক্রীড়াসামগ্রীর সরবরাহ বাড়ছে।

বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারের আকার বছরে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য আমদানিনির্ভর। আর আমদানি করা পণ্যের বড় অংশই আসে চীন থেকে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ সংস্থা দ্য অবজারভেটরি অব ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটির (ওইসি) ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে চীন থেকে। ওই বছর চীন থেকে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার ক্রীড়াসামগ্রী আমদানি করা হয়।

এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জিম ও ফিটনেস সরঞ্জাম, ট্রেডমিল, ওয়েটলিফটিং বারবেল, ফুটবল, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসের সরঞ্জাম, র‍্যাকেট এবং ক্রিকেট গিয়ার।

বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরেও চীনা পণ্যের আধিপত্য দেখা যায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে পাঁচ মাসে ২৪টি দেশ থেকে বাংলাদেশে ২ লাখ ২২ হাজার জার্সি আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ২ লাখ ১৭ হাজার জার্সি এসেছে চীন থেকে, যা মোট আমদানির প্রায় ৯৮ শতাংশ।

ব্যবসায়ীদের মতে, চীনা পণ্যের চাহিদার অন্যতম কারণ তুলনামূলক কম দাম ও পণ্যের বৈচিত্র্য। বাংলাদেশের স্থানীয় উৎপাদন এখনো মূলত ক্রিকেট ব্যাট, ফুটবলসহ সীমিত কিছু পণ্যের মধ্যে রয়েছে। বিপরীতে চীনে বিভিন্ন মান ও দামের বিস্তৃত পরিসরে ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদিত হয়।

গুলিস্তানের এক ক্রীড়াসামগ্রী বিক্রেতা বলেন, চীনা পণ্যের কারণে তুলনামূলক কম দামে ফুটবল ও বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জাম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এসব পণ্য কেনা সহজ হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চীনের প্রযুক্তি, কাঁচামাল ও উৎপাদন দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হলে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো যেতে পারে। বিশেষ করে জার্সি, ক্রীড়া পোশাক, ব্যাগ, গ্লাভস ও কিছু প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।

ফলে বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে চীনের উপস্থিতি শুধু আমদানির ওপর নির্ভরতার বিষয় নয়; কম দামে পণ্য পাওয়া, স্থানীয় উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনাও এর সঙ্গে যুক্ত।