রবিবার, নভেম্বর ৮, ২০২৬
২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ছুটি ঘোষণা ৭ কারখানায়

>> পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

>> শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আবেগ নয়, আইনি প্রক্রিয়ায় এগোবে সরকার: আইনমন্ত্রী

>> সাক্ষ্য না দিয়েও চার্জশিটে সাক্ষীর বিবৃতি, দুই আসামিকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ

>> জামালপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

>> কারা ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দিচ্ছে, জানাল ডিএমপি

>> জামায়াতের নেতৃত্ব নিয়ে রাশেদ খানের কড়া সমালোচনা, আমির হামজা ও গাজী নজরুলকে ঘিরে মন্তব্য

>> শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার নিশ্চয়তা চাইলেন যুক্তরাজ্যের ছয় রাজনীতিক

>> হবিগঞ্জে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ক্ষতিগ্রস্ত নিচের অংশ

>> বিতর্কের মধ্যেই নীল স্যুটে পরীমনির নতুন লুক, ছবি ঘিরে আলোচনা

আপনি পড়ছেন : হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের হামলায় আহত এনসিপি নেতা আলিফের চোখে অস্ত্রোপচার, দৃষ্টিশক্তি নিয়ে শঙ্কা


৩১ জুলাই ২০২৬, সকাল ৮:৪৯
হবিগঞ্জের হামলায় আহত এনসিপি নেতা আলিফের চোখে অস্ত্রোপচার, দৃষ্টিশক্তি নিয়ে শঙ্কা

হবিগঞ্জে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী বর্তমানে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং ডান চোখেও ঝাপসা দেখার সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আলিফ চৌধুরী ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক। তিনি হোমল্যান্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় তাঁর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলিফের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। বাঁ চোখে ব্যান্ডেজ থাকলেও ডান চোখ খুলে দেখার চেষ্টা করেন। তবে দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে কাউকে দেখতে পারছিলেন না। তিনি সবার কাছে নিজের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

চোখের সমস্যার কারণে কক্ষের উজ্জ্বল আলোও তাঁর জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল। পরে কক্ষের আলো কমিয়ে দেওয়া হলে কিছুটা স্বস্তি পান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ দলটির কয়েকজন নেতা হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান। তাঁদের সঙ্গে আলাপকালে আলিফ নিজের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ব্যক্তিগত কষ্টের চেয়ে দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ হওয়াই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

হাসপাতালে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আলিফ বলেন, তিনি কারও ওপর হামলা করতে যাননি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ চান। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মী এ ধরনের সহিংসতার শিকার না হন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

এদিকে চিকিৎসকদের একটি মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেছে। এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আবদুল আহাদ জানান, অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত অনিশ্চিত। পাশাপাশি ডান চোখেও ঝাপসা দেখার সমস্যা রয়েছে।

তবে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণ শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, বাঁ চোখে গুরুতর আঘাতের কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা হবে।

এনসিপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলিফের পারিবারিক অবস্থাও অত্যন্ত অসচ্ছল। তাঁর বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী এবং পরিবারের আর্থিক দায়িত্বের বড় অংশ তিনি নিজেই বহন করতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং করে পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি।

ঘটনার পর এনসিপি সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলিফের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা, তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, হবিগঞ্জের হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।