সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের পীরের বাজার এলাকায় প্রদীপ মালাকার নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মো. আমজাদ হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। গতকাল বিকেল ৬টার দিকে স্থানীয় পীরের বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা।
ভুক্তভোগী প্রদীপ মালাকার দশঘর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম অরণ মালাকার। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মো. আমজাদ হোসেন ৮ নম্বর দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তার পিতা প্রয়াত আবুল হোসেন ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য ও বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রদীপ মালাকারের বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে আমজাদ হোসেনের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে এর আগেও দুই-তিনবার প্রদীপ মালাকারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রদীপ মালাকারের অভিযোগ, গতকাল বিকেলে তিনি স্থানীয় পীরের বাজার এলাকায় অবস্থান করার সময় আমজাদ হোসেন কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি আহত হন বলে দাবি করেন। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, আমজাদ হোসেনের পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থাকায় তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
দশঘর গ্রামের বিএনপির স্থানীয় নেতা ও মুরব্বি রশিদ মিয়া আমজাদ হোসেনের আপন চাচা হওয়ায় তার রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রদীপ মালাকার আরও অভিযোগ করেন, অতীতে এলাকায় সংখ্যালঘু পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদে বসবাস করলেও বর্তমানে হামলা ও হয়রানির আশঙ্কায় তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে তার ওপর বারবার হামলার অভিযোগে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ঘটনাটি ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সংঘটিত হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির বাড়ি বা সম্পত্তি দখলের চেষ্টা হয়ে থাকলে সেটিও তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, হামলার অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রদীপ মালাকার ও তার পরিবার।
তবে এ ঘটনায় মো. আমজাদ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।