সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার সকাল ৮টা ১২ মিনিটের দিকে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মদের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর কার্গো গেটে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পরে সেটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে জেদ্দার একটি প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তিনি নিহত হন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলছে। শাহেদের পরিবারকে দ্রুত সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কোনো তথ্য দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটের একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি বলে চিঠিতে বলা হয়।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোপনীয় চিঠিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৪ অক্টোবরের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানা যায়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরের একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
কনস্যুলেটের চিঠি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া একটি তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম ছিল। তবে সেখানে তাঁদের শাস্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
নজরুল ও সুইটি সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তালিকা অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা নারী কারাগারে ছিলেন।
কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে এর আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির নেই।
কনস্যুলেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন এক মাসের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।