ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যেই ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওমানে গোপন বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে।
অন্যদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাসকাটে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। বৈঠকটি নিয়ে দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে ওমান সরকার সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে দুটি সূত্র। একটি সূত্রের দাবি, বৈঠকটি গত রোববার অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে হুতি প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতিতেও তারা অটল থাকার কথা জানিয়েছে।
ইয়েমেনের একটি সূত্রের ভাষ্য, হুতিরা ইসরায়েলি বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবের জাহাজের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ভিন্ন হতে পারে বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।
বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। হুতিদের পক্ষে মাসকাটে থাকা জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা আবদেলমালিক আল-আজিরিও বৈঠকে ছিলেন বলে একটি সূত্রের দাবি।
বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের মধ্যে পড়ে।
ওমানে মার্কিন দূতাবাস এবং হুতি নেতা আবদুস সালামের কাছেও বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হুতিরা ফোনে তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইয়েমেনের সংঘাত থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছে। পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানান, যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছে। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
এদিকে গত সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির পেরিম দ্বীপও রয়েছে। লোহিত সাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত এই প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুতিদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাত চলে আসছে। দীর্ঘ সময়ের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল। তবে সৌদি আরব ইয়েমেনের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর উত্তেজনা আবার বাড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে রিয়াদকে সরাসরি এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে না বলে জানানো হয়েছে।