শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> রাড্ডায় হামলা–মিষ্টির পদত্যাগ: বিএনপির কঠোরতা কতটা কার্যকর হবে?

>> রাড্ডার ঘটনায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চাইলেন জামায়াত আমির

>> রাড্ডা ভাঙচুরের ঘটনায় কঠোর অবস্থানে সরকার, দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

>> ‘মা নেই, এখন আপনারাই আমাকে দেখে রাখবেন’—ফুলগাজীতে তারেক রহমান

>> রাউজানে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির অভিযোগ, রাতভর অভিযানে গ্রেপ্তার ১

>> শরীয়তপুর আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগ, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি

>> রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: পদত্যাগ করলেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

>> অনশনের পর মধ্যরাতে ময়মনসিংহে ২০ জনের নিয়োগপত্র, বঞ্চিত আরও দুজন

>> বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচির মধ্যে মাঠের তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিএনপি

>> যুবদল নেতার মামলায় জামায়াতের ২৫ নেতা-কর্মী কারাগারে

আপনি পড়ছেন : বিশ্ব

হুতিদের শক্তি কোথায়, বিপুল ব্যয় করেও কেন পিছু হটেছিল যুক্তরাষ্ট্র


Rabeya ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২২



হুতিদের শক্তি কোথায়, বিপুল ব্যয় করেও কেন পিছু হটেছিল যুক্তরাষ্ট্র


ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের মোখা বন্দর ও বাব আল-মানদেবের কাছে পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি ঘিরে নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হুতিরা ইয়েমেনের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা রাজধানী সানাসহ দেশটির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১৪ সালে তারা রাজধানী দখলের পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলেও হুতিদের পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্য করে লোহিত সাগরে হামলা শুরু করে হুতিরা। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

হুতিদের সামরিক সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই দ্রুতগতির নৌযান। সমুদ্রপথে মাইন ব্যবহারের সক্ষমতাও তাদের রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে বাব আল-মানদেব ও লোহিত সাগরে বড় সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল জটিল হয়ে উঠতে পারে।

হুতিদের সক্ষমতার পেছনে ইরানের সহযোগিতার কথাও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আইআরজিসির সদস্য, সামরিক উপদেষ্টা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠিয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগরে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো।

এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন রাফ রাইডার’-এ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং ইয়েমেনে আট শতাধিক স্থানে হামলা করা হলেও হুতিদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা যায়নি।

পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে সামরিক অভিযান বন্ধ করে। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতা, আঞ্চলিক উত্তেজনা, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সহায়তা চাইলেও ওয়াশিংটন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে আগ্রহী নয় বলে সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, তুলনামূলক কম সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক সমর্থনের কারণে হুতিরা বড় শক্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে—এমন চিত্রই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।