আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে জামায়াতে ইসলামী কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশের জনগণ এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।
শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর রায়ডাঙা গ্রামে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন রাশেদ খাঁন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে এবং এ কারণে দলটির রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি জাতীয় সংকট। এই সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রে অস্থিরতা তৈরি হলে এর রাজনৈতিক সুবিধা আওয়ামী লীগ নিতে পারে।
জামায়াতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হওয়ার পেছনে জামায়াতের কর্মকাণ্ড ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত যদি বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা করে, তাহলে জনগণই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগকে ফেরানোর কোনো চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি আবরার ফাহাদ ও শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
কবর জিয়ারতের সময় আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কুমারখালী থানার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।