গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাশে অরক্ষিত সেপটিক ট্যাংকের গর্তে পড়ে প্রায় দুই দিন আটকে থাকার পর একটি কুকুরকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগরহাওলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়ে কুকুরটিকে গর্ত থেকে বের করে আনা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত শুক্রবার দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে থাকা সেপটিক ট্যাংকের গর্তে পড়ে যায় কুকুরটি। ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সেপটিক ট্যাংকটি খোলা অবস্থায় ছিল। সময়ের সঙ্গে গর্তটির চারপাশে ঝোপঝাড় বেড়ে যাওয়ায় বাইরে থেকে সেটি সহজে দেখা যাচ্ছিল না।
রোববার ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন বাসিন্দা নিচ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। পরে ঝোপঝাড় সরিয়ে দেখেন, গভীর গর্তের ভেতরে কুকুরটি আটকে আছে। ট্যাংকের নোংরা পানিতে তখন তার শরীরের প্রায় অর্ধেক ডুবে ছিল।
খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী রমজান আলীসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাঁরা দড়ি, প্লাস্টিকের বস্তা ও কাঠের টুকরা ব্যবহার করে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন।
কয়েক দফায় বস্তার সাহায্যে কুকুরটিকে ওপরে তোলার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই সেটি আবার নিচে পড়ে যায়। পরে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে সফল হন তাঁরা। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর কুকুরটিকে জীবিত অবস্থায় গর্ত থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়।
উদ্ধারের পর কিছুক্ষণ কুকুরটি দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে ছিল। পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে এবং দৌড়ে কাছের লোকালয়ের দিকে চলে যায়।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া রমজান আলী বলেন, বিপদে পড়া প্রাণীটিকে উদ্ধার করা তাদের কাছে মানবিক দায়িত্ব। তাঁর মতে, এ ধরনের কাজ বিশেষ কিছু নয়; মানুষের উচিত সব প্রাণীর প্রতিই সহানুভূতিশীল হওয়া।
পরিবেশকর্মী ও নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, প্রাণীরা প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো প্রাণী বিপদে পড়লে তাকে রক্ষা করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। নগরহাওলায় কুকুরটিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাটি মানবিকতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত সেপটিক ট্যাংকটি ঢেকে রাখা হলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে নির্মাণাধীন ভবন ও খোলা গর্তের চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।