কোরিয়ার দর্শকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও সিরিজটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। ফলে মুক্তির আগেই আলোচনা শুরু হয়েছে—এটি কি ডিজনি প্লাসের অন্যতম সফল কোরিয়ান অরিজিনাল সিরিজ হয়ে উঠতে পারবে?
সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্র পূর্ব সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী নাভিয়ের। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন শিন মিন-আ। তাঁর স্বামী সম্রাট সোভিয়েশুরের ভূমিকায় রয়েছেন জু জি-হুন। সম্রাটের জীবনে রাস্তা নামের এক তরুণীর প্রবেশের পর নাভিয়েরের দাম্পত্য ও রাজজীবনে তৈরি হয় বড় পরিবর্তন। রাস্তা একজন পালিয়ে আসা দাসী। পরবর্তী সময়ে সম্রাট নাভিয়েরের কাছে বিবাহবিচ্ছেদের প্রস্তাব দেন।
নাভিয়ের সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেও নিজের জন্য একটি শর্ত রাখেন। তিনি জানান, বিচ্ছেদের পর পশ্চিম সাম্রাজ্যের যুবরাজ হেইনরিকে বিয়ে করার সুযোগ তাকে দিতে হবে। এখান থেকেই শুরু হয় ক্ষমতা, ভালোবাসা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিশোধের জটিল গল্প। যুবরাজ হেইনরির চরিত্রে অভিনয় করেছেন লি জং-সক।
‘দ্য রিম্যারিড এমপ্রেস’ তৈরি হয়েছে একই নামের জনপ্রিয় ওয়েব উপন্যাস অবলম্বনে। পরে গল্পটি ওয়েবটুন হিসেবেও প্রকাশিত হয়। ফলে টেলিভিশন বা ওটিটি পর্দায় আসার আগেই সিরিজটির জন্য তৈরি হয়েছে একটি বড় ভক্তগোষ্ঠী। মূল গল্পের পরিচিতি নতুন দর্শকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি পুরোনো পাঠকদের মধ্যেও প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
তবে এটি শুধু প্রেম ও সম্পর্কের গল্প নয়। রাজদরবারের ক্ষমতার লড়াই, রাজনৈতিক কৌশল, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা, সামাজিক অবস্থান এবং প্রতিশোধ—সবই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেই নেওয়া এক নারীর যাত্রাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
ওয়েব উপন্যাস ও ওয়েবটুনের জনপ্রিয় গল্পকে পর্দায় বাস্তব রূপ দেওয়া নির্মাতাদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। পাঠকের কল্পনায় থাকা রাজপ্রাসাদ, পোশাক, চরিত্র ও সাম্রাজ্যের পরিবেশকে দৃশ্যমান করতে হয়েছে। ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি সেট নির্মাণ, পোশাক, মেকআপ এবং ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার দিকেও বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত টিজারে এরই মধ্যে মিলেছে বড় বাজেটের নির্মাণের ইঙ্গিত। বিশাল রাজপ্রাসাদ, জমকালো পোশাক এবং প্রধান চরিত্রগুলোর দ্বন্দ্বময় উপস্থিতি সিরিজটির জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে। অল্প সময়ের টিজারেই নাভিয়ের, সোভিয়েশুর ও হেইনরির মধ্যকার জটিল সম্পর্কের আভাস পাওয়া গেছে।
মুক্তির আগেই টিজারের এক কোটি ভিউ দর্শকদের আগ্রহের মাত্রা স্পষ্ট করেছে। তবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কোনো সিরিজের চূড়ান্ত সাফল্য শুধু প্রচারণা বা টিজারের জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে না। মুক্তির পর দর্শক কতটা আগ্রহ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পর্বগুলো দেখছেন, গল্প কতটা ধরে রাখতে পারছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা কতটা বিস্তৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘মুভিং’, ‘বিগ বেট’ এবং ‘দ্য কিলার’স শপিং লিস্ট’-এর মতো কোরিয়ান অরিজিনাল সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে ডিজনি প্লাস। সেই ধারাবাহিকতায় ‘দ্য রিম্যারিড এমপ্রেস’ কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।