ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকাইয়ে সেই প্রত্যাবর্তনটা হয়েছে দুর্দান্তভাবে। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে স্বাগতিকরা।
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। তাই ম্যাকাইয়ের জয়কে অনেকে প্রতিশোধের জয় হিসেবে দেখছেন। তবে ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বিষয়টিকে প্রতিশোধের চেয়ে আত্মসম্মানের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কামিন্স বলেন, প্রথম ম্যাচে হারের পর পরের ম্যাচে জয় পাওয়ার জন্য দলকে মরিয়া হয়ে উঠতে হয়েছিল। তাঁর মতে, ঘুরে দাঁড়ানোটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল এবং সেটি করতে পেরে তাঁরা সন্তুষ্ট।
ম্যাকাই টেস্টে ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়াও খুব একটা স্বস্তিতে ছিল না। নিজেদের একমাত্র ইনিংসে ২১০ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে উইকেটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হলেও কামিন্স মনে করেন, পিচকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।
অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের মতে, উইকেট বেশ ভালোই ছিল। মাত্র পাঁচ সেশনে ৩০টি উইকেট পড়ে যাবে—ম্যাচের শুরুতে এমন পরিস্থিতি তাঁদের কল্পনাতেও ছিল না।
তবে বোলারদের দাপট যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, তা স্বীকার করেছেন কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০টি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামও অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসে ৭ উইকেট শিকার করেছেন।
দুই দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার পেছনে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন কামিন্স। তাঁর মতে, দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি কিছু সময় দুই দলের ব্যাটিং ছিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দুর্বল। এমনকি নিজের ব্যাটিং নিয়েও সন্তুষ্ট নন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।
সব মিলিয়ে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জবাবের পর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে প্রত্যাবর্তনেই শেষ হয়েছে সিরিজ। তবে কামিন্সের ভাষায়, এটি শুধুই প্রতিশোধ নয়—দলের আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার লড়াইও ছিল।