শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

>> সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ

>> মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

>> ট্রাকচালক হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ৩৪ আসামির অভিযোগ গঠন ফের পেছাল

>> হাতকড়া পেছনে রেখে সিঁড়ি দিয়ে আদালতে ওঠানো নিয়ে পলকের আপত্তি

>> সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে নতুন কমিটি: রিজভী

>> নারায়ণগঞ্জে কারাবন্দি যুবকের ঢামেকে মৃত্যু

>> ভারতে শেখ হাসিনার আইনি মর্যাদা কী, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন

>> বিদ্যালয় থেকে শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, ‘মেয়েধরা’ সন্দেহে নারীকে মারধর

>> যন্তর মন্তরের পথে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, পুলিশের বাধায় আটক বিরোধী নেতারা

আপনি পড়ছেন : ধর্ম

ইসলামি সমাজ গঠনে যে ৪ ধরনের জ্ঞান জরুরি


Rabeya ২৯ আগস্ট ২০২৬, বিকাল ৫:০৩



ইসলামি সমাজ গঠনে যে ৪ ধরনের জ্ঞান জরুরি


সমাজ সংস্কার, বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সময় ও পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে বোঝার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমকালীন বিশ্বে ইসলামি চিন্তা ও সামাজিক সংস্কারের উদ্যোগে নানা সীমাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলো কিছু মৌলিক বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দূরদর্শিতার অভাব।

ইসলামি সমাজে কার্যকর ও টেকসই পরিবর্তন আনতে চার ধরনের জ্ঞান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট চিন্তাবিদেরা। এগুলো হলো—অগ্রাধিকারের জ্ঞান, সমকালীন বাস্তবতার জ্ঞান, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও ভাষার জ্ঞান এবং সমাজ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার জ্ঞান।

১. অগ্রাধিকারের জ্ঞান

ইসলামি বিধানের কিছু বিষয় স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়। আবার কিছু বিষয়ে স্থান, কাল ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নমনীয়তার সুযোগ রয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে কোন কাজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা বোঝার জ্ঞানকে ফিকহের পরিভাষায় ‘ফিকহুল আওলাবিয়্যাত’ বলা হয়।

এই জ্ঞানের অভাবে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সংকট উপেক্ষিত থেকে যায়, অথচ তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মানুষের সময় ও শক্তি ব্যয় হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো সমাজে যদি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বা মানবিক সংকট দেখা দেয়, তখন নফল ইবাদতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন পূরণ করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ইমাম গাজালির আলোচনাতেও জনকল্যাণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

২. সমকালীন বাস্তবতা বোঝার জ্ঞান

বর্তমান পৃথিবীতে একটি দেশের ঘটনা অন্য দেশ ও সমাজের ওপরও দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তি, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজ এখন পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

তাই কোনো সামাজিক সমস্যা সমাধান বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আগে সেই সমস্যার প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা বোঝা জরুরি।

ইসলামি চিন্তার ক্ষেত্রেও শুধু ধর্মীয় মূল গ্রন্থের জ্ঞান যথেষ্ট নয়; যে বাস্তবতার ওপর কোনো সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করা হবে, সেই বাস্তবতা সম্পর্কেও গভীর ধারণা থাকা প্রয়োজন। ইসলামি চিন্তাবিদ ইবনুল কাইয়িমের আলোচনায় শরিয়াহর জ্ঞানের পাশাপাশি মানুষের বাস্তব অবস্থা বোঝার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

৩. মানুষের মনস্তত্ত্ব ও ভাষা বোঝা

সময়ের সঙ্গে মানুষের চিন্তা, প্রশ্ন করার ধরন ও জীবনবোধ পরিবর্তিত হয়। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় বিষয় তুলে ধরার সময় তাদের চিন্তাধারা, বোধগম্যতা ও মানসিক অবস্থাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ প্রত্যেক রাসুলকে তাঁর নিজ জাতির ভাষায় পাঠিয়েছেন, যাতে তাঁরা মানুষের কাছে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারেন। এখানে ভাষার পাশাপাশি মানুষের বোধগম্যতা ও চিন্তার ধরন বিবেচনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সাহাবিদের বক্তব্যেও মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর অনুযায়ী কথা বলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমন কোনো জটিল বিষয় মানুষের সামনে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যা তাদের বোঝার সক্ষমতার বাইরে গিয়ে বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে।

৪. সমাজ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বোঝা

সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন সাধারণত একদিনে আসে না। নৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং ধৈর্যের প্রয়োজন হয়।

কোরআনে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম বা ‘সুন্নাতুল্লাহ’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, সমাজ ও ইতিহাসের পরিবর্তনের পেছনে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও ধারাবাহিকতা কাজ করে।

তাই সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যেতে হয়। ফলাফল কখন এবং কীভাবে আসবে, সেটি সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

চার জ্ঞানের সমন্বয়ই গুরুত্বপূর্ণ

আধুনিক সময়ে ইসলামি সমাজ ও চিন্তার ইতিবাচক বিকাশের জন্য শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন যথেষ্ট নয়। কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা কী, নতুন প্রজন্ম কীভাবে চিন্তা করে এবং সমাজ কীভাবে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়—এসব বিষয়ও বুঝতে হবে।

অগ্রাধিকারের জ্ঞান, সমকালীন বাস্তবতার সঠিক উপলব্ধি, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও ভাষা বোঝার সক্ষমতা এবং সমাজ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে জ্ঞান—এই চারটির সমন্বিত প্রয়োগই কার্যকর ও যুগোপযোগী ইসলামি সমাজ সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।