শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> বিআরটিএতে দালালচক্রের দাপট? টাইগার আইটির আল-আমিনকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ

>> শাস্তির পরও মাদারীপুর বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ

>> মেট্রোরেলে অগ্নিসংযোগের অভিযুক্তকে ছাত্রলীগে পদ দেওয়ার অভিযোগ

>> গুলশান থেকে গ্রেপ্তার গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান

>> সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে পেট্রোল বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ

>> ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মাদারগঞ্জ জামায়াতের সাবেক আমির গ্রেপ্তার

>> ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ব্যর্থ হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

>> বিআরটিএতে গোপন অভিযোগ ফাঁসের অভিযোগ, এডি শেখ ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

>> ঢাকা জজ কোর্টে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিনের চেম্বারে অতর্কিত তাণ্ডব, চেম্বার বন্ধের হুমকির অভিযোগ

>> জামায়াতের সমঝোতার ধর্ষণ, বিএনপির চাঁদাবাজি, এনসিপির জুলাই এই মিলেই শেষ সাজানো দেশ -এম রহমান

আপনি পড়ছেন : এক্সক্লুসিভ

বিআরটিএতে দালালচক্রের দাপট? টাইগার আইটির আল-আমিনকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ


Rabeya ৮ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫০



বিআরটিএতে দালালচক্রের দাপট? টাইগার আইটির আল-আমিনকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিভিন্ন সেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের হয়রানি ও দালালনির্ভরতার অভিযোগ রয়েছে। এবার সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী, অপারেটর ও দালালকে ঘিরে নতুন করে একটি কথিত সিন্ডিকেটের অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগে টাইগার আইটির আল-আমিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিআরটিএর বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের সঙ্গে দালালদের যোগাযোগ রয়েছে এবং এই যোগাযোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে।

কীভাবে চলছে কথিত সিন্ডিকেট?

বিআরটিএতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন, ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ নানা সমস্যার মুখোমুখি হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত নিয়মে সরাসরি সেবা নিতে গেলে অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা বা বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়তে হয়। পরে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত এবং বিআরটিএর ভেতর থেকে কেউ তাদের সহযোগিতা করছেন কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গার্ড ও অপারেটরদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

কথিত এই চক্রের সঙ্গে বিআরটিএর নিরাপত্তাকর্মী ও অপারেটর পর্যায়ের কয়েকজনের যোগাযোগ থাকার অভিযোগও এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ তৈরি করে তাদের নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পাঠানো, বিভিন্ন সেবা দ্রুত করে দেওয়ার আশ্বাস এবং এর বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড চলে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কথিত চক্রের কয়েকজন সদস্য তাদের ঘোষিত বা বৈধ আয়ের তুলনায় বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন। জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দামি গাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদ অর্জনের কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কার সম্পদের পরিমাণ কত এবং এসব সম্পদের অর্থের উৎস কী—তা যাচাই না করে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

আগেও উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ

বিআরটিএকে ঘিরে দালালচক্র, ঘুষ এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, প্রতিবাদ এবং কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকারি সেবার ক্ষেত্রে দালালের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিআরটিএর প্রতিটি সেবা ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করার দাবি রয়েছে।

তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র

টাইগার আইটির আল-আমিনসহ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য কি না, বিআরটিএর ভেতরে কোনো প্রভাবশালী মহল তাদের সহযোগিতা করছে কি না এবং আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা উচিত।