বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দুই বন্ধু ফিরোজ আহমেদ (২৩) ও মাহী পাটোয়ারী (২৪)। একজনের ইতালি এবং অন্যজনের কাতার যাওয়ার কথা ছিল। বিদেশ যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ঘোরাঘুরি করতে দুজন মোটরসাইকেলে রাঙামাটির সাজেক ও কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ফেরার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁরা।
গত মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর দুর্ঘটনার শিকার হন দুই বন্ধু। পরে তাঁদের মরদেহ নিজ এলাকা কচুয়ায় নিয়ে আসা হয়।
বুধবার রহিমানগর বিএবি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুই বন্ধুর জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মাহী পাটোয়ারী রহিমানগর বাজারসংলগ্ন সাহারপাড় গ্রামের মিজানুর রহমান পাটোয়ারীর ছেলে। আর ফিরোজ আহমেদ একই এলাকার মনির হোসেনের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই পাশাপাশি বেড়ে ওঠা এই দুই বন্ধুর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুই বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে সাজেক ও কক্সবাজারের উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন। কয়েক দিন ঘোরাঘুরি শেষে মঙ্গলবার ভোরে কক্সবাজার থেকে কচুয়ার পথে রওনা হন তাঁরা। পথেই ঘটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা।
দুই বন্ধুর পরিবার জানিয়েছে, মাহী ছিলেন চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। প্রায় দুই মাস পর তাঁর ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় ফিরোজের কাতার যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল; আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল।
মাহীর বাবা মিজানুর রহমান পাটোয়ারী ছেলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই মাহী ও ফিরোজ একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। জীবনের শেষ যাত্রাতেও তাঁরা আলাদা হননি।
বিদেশে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া দুই বন্ধুর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তাঁদের একসঙ্গে মৃত্যু পরিবার ও স্বজনদের জন্য রেখে গেল গভীর শোক ও বেদনা।