টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
ঘটনার পর সেতুর নির্মাণকাজের ঠিকাদার এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাঁদের নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) আহাদি হোসেনকে। আগামী এক দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেভি)। প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করতে দেখা যায়। তাঁরা সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় ঘটনাটির ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে স্থানীয়রা সরে গেলে আবার রাতে কাজ শুরু করা হয় এবং ওই রাতেই ফুটপাতের স্ল্যাবের ঢালাই শেষ করা হয় বলে তাঁরা জানান।
পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাজটি করা টাঙ্গাইলের ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তাঁর দাবি, রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি। ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরির সময় বাঁশ দিয়ে সাটারিং করা হয়েছিল। এরপর পলিথিন দিয়ে রড বসিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, ঢালাই তুলে রড সরিয়ে বাঁশের অংশের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফুটপাতের স্ল্যাবের কাজ নতুন করে করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, সেতুর যেসব অংশে নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং কাজের ত্রুটি ও গাফিলতির বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।