কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগকারী আনোয়ারুল ইসলামের দাবি, মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ধলগাছা মৌজায় তাঁর দাদা ও বাবার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি এবং মৃত তিন বোনের ওয়ারিশদের নামে নামজারির জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। আবেদনগুলোর নম্বর ২৮৪৬/২৬, ২৮৪৮/২৬ ও ২৭১১/২৬। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই আবেদনগুলো তিনবার বাতিল করেন। পরে নামজারি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে নগদ ৫০ হাজার টাকা নেন এবং পরবর্তী সময়ে বিকাশের মাধ্যমে আরও পাঁচ দফায় ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
আনোয়ারুল ইসলামের ভাষ্য, ঘুষ লেনদেনের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ও বিকাশের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। এসব তথ্যসহ তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ধলগাছা মৌজার ৩৮৯ নম্বর এসএ খতিয়ানে মূল জমির পরিমাণ ০.৪৯ একর হলেও তা পরিবর্তন করে ১০.৫৬ একর দেখানো হয়েছে। পরে মো. শফিউজ্জামান মণ্ডল ও মোছা. মমতাজ মহলের নামে জমির নামজারি করা হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নামজারি খতিয়ান বাতিলের দাবিতে গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে রাজীবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন আনোয়ারুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনটি ৪৪/২৬ নম্বর বিবিধ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জমির পরিমাণ পরিবর্তন ও অন্য ব্যক্তিদের নামে নামজারির কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা আইনি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। তাঁর দাবি, পাশের কোদালকাটি ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল ছালাম মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে বদলি হয়ে আসতে চান। এ কারণে আব্দুল ছালাম তাঁর এক নিকটাত্মীয়কে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ অভিযোগ করিয়েছেন বলে দাবি করেন সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে রাজীবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান জানান, তাঁরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, কথিত ঘুষের টাকা ফেরত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত ঘুষ গ্রহণ, খতিয়ানের তথ্য পরিবর্তন ও অবৈধ নামজারির বিষয়গুলো স্বাধীন তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।