সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

সদ্যপ্রাপ্ত

>> বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, তিন বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস

>> বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে অর্থ লোপাটের অভিযোগ, মোশারফকে ঘিরে প্রশ্ন

>> প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, হানিট্র্যাপ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

>> সৌদি আরবে এক সপ্তাহে প্রায় ১৪ হাজার গ্রেপ্তার

>> আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, মামলা হলেও শনাক্ত হয়নি হামলাকারী

>> আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার চার্জশিট গ্রহণ, তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

>> ৬ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার, ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন

>> জাতীয় নারীশক্তির নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা, ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি

>> ব্রাসেলসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৯

>> ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গোপালগঞ্জে আহত ২

আপনি পড়ছেন : খেলা

নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, ব্যাখ্যা দিল বিসিসিআই


Rabeya ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৫৮



নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি কেন, ব্যাখ্যা দিল বিসিসিআই


টানা দুই বছর এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেও চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করেনি ভারতীয় দল। পুরুষ দলের পর এবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেছে ভারতের নারী ক্রিকেট দল। দুই ক্ষেত্রেই ট্রফি তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সামনে এসেছিল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মহসিন নাকভির নাম।

নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তানের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি জানিয়েছে ভারত। এ সিদ্ধান্তের কারণ এবার স্পষ্ট করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।

ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরিতাপূর্ণ। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকে। পরবর্তী সময়ে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’কে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও।

বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত খেললেও মাঠের বাইরে বেশ কিছু ক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রাখছে ভারতীয় দল। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপ জয়ের পরও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেনি সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত। এবার নারী এশিয়া কাপের ফাইনালেও একই সিদ্ধান্ত দেখা গেল হারমানপ্রীত কৌরদের ক্ষেত্রে।

ফাইনালের পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আইএএনএসকে দেওয়া বক্তব্যে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, পেহেলগামের ঘটনার পর ভারতের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ও ক্রিকেটীয় যোগাযোগ নিয়ে ব্যাপক আপত্তি তৈরি হয়েছে।

তবে বহুজাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ সরকারের নীতির অংশ বলেও জানান তিনি। সাইকিয়ার ভাষায়, ভারতকে আন্তর্জাতিক বহুদলীয় টুর্নামেন্টে সব অংশগ্রহণকারী দেশের বিপক্ষেই খেলতে হয় এবং বিসিসিআই সেই নীতিই অনুসরণ করছে।

তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার অর্থ এই নয় যে তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত সব বিষয় ভারত মেনে নেবে—এমনটাই স্পষ্ট করেছেন বিসিসিআই সচিব।

সাইকিয়া বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই খারাপ ছিল, আর ২০২৫ সালের এপ্রিলের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাঁর দাবি, নাকভি এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যাঁর ভূমিকা ভারতের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে তাঁর হাত থেকে ট্রফি নেওয়ার বিষয়ে ভারতীয় দলের আপত্তি রয়েছে।

এদিকে ফাইনাল ম্যাচের সময় নাকভির সঙ্গে একই রয়্যাল বক্সে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লাও। ফলে প্রশ্ন ওঠে, ট্রফি নিতে আপত্তি থাকলেও নাকভির সঙ্গে একই জায়গায় বসতে সমস্যা কোথায়?

এর জবাবে সাইকিয়া জানান, কারও সঙ্গে দেখা করা বা সৌজন্য বিনিময় করা এবং তাঁর কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করা—দুটি বিষয় এক নয়। ম্যাচ চলাকালে রয়্যাল বক্সে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী তিনি দেখা করেছেন এবং কথা বলেছেন। নাকভিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং এটিকে স্বাভাবিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবেই দেখছেন তিনি।

ট্রফি বিতরণ নিয়ে অবশ্য শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। বিসিসিআই চেয়েছিল ভারতীয় চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হোক এসিসির সহসভাপতির মাধ্যমে। কিন্তু নাকভি সেই প্রস্তাবে সম্মত হননি বলে জানিয়েছেন সাইকিয়া।

তবে ট্রফি কে তুলে দিলেন, সেটিকে ভারতীয় দলের মূল বিষয় হিসেবে দেখছে না বিসিসিআই—এমনটাই দাবি বোর্ড সচিবের। তাঁর মতে, ভারতের প্রধান লক্ষ্য ছিল মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ জেতা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়াতেই তারা সন্তুষ্ট।

ফলে এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেও ট্রফি গ্রহণ না করার ঘটনা ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ক্রিকেটের মঞ্চেও কতটা গভীর হয়েছে, সেই প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।