রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় মিছিলের প্রস্তুতি, উসকানিমূলক স্লোগান ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৪ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. মিরাজুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. মোস্তফা সরদার, ঢাকা-৪৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রাজীব, রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক যুবলীগ সদস্য মহিউদ্দিনসহ আরও ১১ জন।
আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকুসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর পুরানা পল্টনের আজাদ প্রোডাক্টস গলির মুখে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১০০ থেকে ১২০ জন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন এবং নাশকতার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে পল্টন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পল্টন মডেল থানায় মামলা করা হয়।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের শনাক্ত করা, নাশকতায় অর্থায়নকারীদের পরিচয় জানা এবং কথিত অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এদিকে একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক চার শিশুকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও রিমান্ড আবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ; আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।